রাজ্যের খবর

সব নথি আছে, তবুও তালিকায় নেই নাম, চিন্তায় চুঁচুড়ার গৃহবধু

স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় বিভ্রান্তি, অভিযোগ পরিবারের

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: সব নথি থাকা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেল চুঁচুড়ার এক গৃহবধূর। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। চুঁচুড়ার বাসিন্দা শর্মিষ্ঠা বেগম ঘোষের অভিযোগ, বৈধ পরিচয়পত্র ও একাধিক সরকারি নথি থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শর্মিষ্ঠার নাম ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাঁর কাছে রয়েছে জন্মের শংসাপত্র, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত শংসাপত্র, বিবাহের নথি এবং বৈধ পাসপোর্ট। শুধু তাই নয়, তাঁর স্বামী, মা-বাবা, ভাই-বোন—পরিবারের সকল সদস্যই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সংশোধিত তালিকায় তাঁর নাম বাদ পড়ে যায়।

অভিযোগ, প্রথমে তথ্যগত অসঙ্গতির কথা জানিয়ে শুনানির ডাক দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি ‘অ্যাডজুডিকেশন’-এ ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হলে দেখা যায়, শর্মিষ্ঠার নাম সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। শর্মিষ্ঠার স্বামী শেখ নাসির উদ্দিনের দাবি, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যেসব নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, তার সবই মেনে চলা হয়েছে। তবুও কেন এই পরিস্থিতি, তা স্পষ্ট নয়। তাঁর কথায়, ‘যে ভোটারদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়, এখন সেই ভোটারদেরই প্রমাণ করতে বলা হচ্ছে তারা বৈধ কি না। নির্বাচন কমিশন তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে তা সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দিচ্ছে।’

এদিকে, যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের ট্রাইবুনালে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হলেও, কীভাবে, কোথায় এবং কোন পদ্ধতিতে আবেদন করতে হবে—তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের। পুরো ঘটনায় উদ্বেগে শর্মিষ্ঠার পরিবার। তাঁদের আশঙ্কা, আসন্ন নির্বাচনে তিনি আদৌ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

 

Related Articles