কলকাতারাজ্যের খবর

Campus Tragedy: যাদবপুরের ছাত্রী অনামিকার রহস্য, মৃত্যুতে বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ

Campus Tragedy widens as Anamika Mondal’s father alleges she was forced to drink and pushed into a pond at Jadavpur University.

Truth Of Bengal: কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যুর পর ৭২ ঘণ্টা একটিও শব্দও উচ্চারণ করেননি বাবা অর্ণব মণ্ডল। রবিবার মুখ খুললেন। বললেন ‘কে বা কারা ঝিলের পাশে ইউনিয়ন রুমের কাছে ওকে ডেকেছিল সেই কারনেই ও এসেছিল। এরপর কেউ হয়তো ওকে ঠেলে ফেলে দিয়েছিল ঝিলের জলে(Campus Tragedy)। একথা বলছি তার কারণ আমি দেখেছি ওর দুই কনুইতে ছড়ে যাওয়ার দাগ। একমাত্র ঠেলে দেওয়ার পর কনুই দিয়ে পড়লেই এই ধরনের কেটে যাওয়ার দাগ তৈরি হয়।’ অর্ণববাবুর বক্তব্য যে তিনজন সেসময় ঝিলের কাছে ছিল, তাঁদেরকে জেরা করলেই আসল ঘটনা জানা যাবে। অর্ণববাবু আরও বলেন, অনামিকার মোবাইল পরীক্ষা করলেই সব ঘটনা পরিস্কার হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত পুলিশ অনামিকার মোবাইলটি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করা শুরু করেছে। রবিবার মৃত ছাত্রীর বাবা আরও বলেন, ‘মেয়েকে কেউ হয়তো প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল। অনামিকা তা প্রত্যাখ্যান করার কারনেই তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে ঝিলের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অনামিকা সাঁতার জানতো না, তাই ডুবে গিয়েছে।’

[আরও পড়ুনঃ Medical Mystery: আরজি করের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু! গ্রেফতার অভিযুক্ত প্রেমিক]

এ রহস্য মৃত্যুর জোরদার তদন্ত চলছে। যাদবপুরের ঘটনাস্থলে ডিসি যান এসএসডি বিদিশা কলিতা। যাদবপুর কাণ্ডে পুলিশের স্ক্যানারে অনামিকার চার বন্ধু। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যাদবপুর থানায়। ইতিমধ্যে মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয়েছে। প্রাথমিকে রিপোর্টে উঠে এসেছে অনেক তথ্য(Campus Tragedy)। জলে ডুবেই ছাত্রী অনামিকা মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে উঠে এসেছে। শরীরের দুই কনুইতে হালকা ছড়ে যাওয়ার দাগ পাওয়া গেছে। সম্ভবত পড়ে গেলে বা কিছু ধাক্কা লাগলে এমন হতে পারে। সন্দেহ আছে তিনি মৃত্যুর আগে মদ্যপান করেছিলেন। পাকস্থলীতে মদের উপস্থিতি নিয়ে কোন স্পষ্ট তথ্য মেলেনি। চিকিৎসকের পরিভাষায় ভিসেরা (অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-উপাদান) পরীক্ষার পর এটা নিশ্চিত হবে।

FB POST: https://www.facebook.com/truthofbengal

ওইদিন যে চারজনকে দেখা গেছে সিসিটিভিতে। সেই চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একজন ছাত্রীকে দেখা গেছে তাকে সিপিআর দিচ্ছে এমনও ছবি সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে। তদন্তকারী অফিসাররা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা তদন্ত করে দেখছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, সেদিন ওই সময় তাঁর স্ত্রীর কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, মেয়ে জলে পড়ে গিয়েছে(Campus Tragedy)। তাঁকে জল থেকে তোলা হয়েছে। তখন জানানো হয় শ্বাসপ্রশ্বাস আছে। জানানো হয় সহপাঠীরাই তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে কেপিসি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।

অনামিকার মা-বাবাকে সেখানে যেতে অনুরোধ করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন, মেয়ে আর নেই। তাঁর পালস পাওয়া যাচ্ছে না। অনামিকা রাত ৯টার কিছু পরে মাকে ফোন করে বলেছিলেন বাউল গানের অনুষ্ঠান চলছে, সেই অনুষ্ঠান শোনার পর দ্রুত বাড়িতে ফিরে আসবেন। কিন্তু তারপরেই এল সেই মৃত্যু সংবাদ। মৃত্যুর ঠিক আগেই মেয়ে ফোন করে বলেছিল, ‘মা ছবিগুলো পাঠাচ্ছি। ছবিগুলে দেখো। আরও পাঠাচ্ছি আমি।’ মা বলেছিলেন, ‘আর পাঠাতে হবে না। তুই এবার চলে আয়। বেরিয়ে আয়।’ মেয়ের আর ফেরা হল না।