রাজ্যের খবর

আরজি কর কাণ্ডকে সামনে রেখে শুক্রবার থানা ঘেরাওয়ের বিজেপির

BJP on Friday surrounded the police station in front of the RG tax case

The Truth of Bengal: আরজি কর কাণ্ডকে সামনে রেখে শুক্রবার থানা ঘেরাওয়ের ডাক দেয় বিজেপি। নন্দীগ্রাম, চুঁচুড়া, সোনামুখী, সিউড়ি, কাঁকসা থানায় বিজেপির নেতা- কর্মীরা বেপরোয়া তাণ্ডব চালায়। বিজেপি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে কড়া সমালোচনা করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের স্পষ্ট কথা,নির্যাতিতার বিচার হোক,দোষীদের শাস্তি হোক।কিন্তু বিরোধীদের তাণ্ডব-গন্ডগোল সৃষ্টির চেষ্টা বন্ধ হোক।

মৃত্যু নিয়ে বিজেপির রাজনীতির মরিয়া  চেহারা আবারও সামনে এল। যেখানে সিবিআই তদন্ত করছে আরজি কর কাণ্ডের। নির্যাতিতার খুন-ধর্ষণের জন্য তদন্ত চলছে জোরকদমে।মানুষের মধ্যে দাবি তীব্র হয়েছে,দোষীদের শাস্তির জন্য। আর তার মাঝে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে হাল্লা বোল শোরগোল তুলতে চাইছে বলে অনেকের অভিমত। বাংলায় আন্দোলনের জমিতে অনেকদিন দেখা যায়নি বিজেপিকে।

বিধানসভায় শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করেও গেরুয়া শিবির ৭৭-এর গন্ডি পেরোতে পারেনি।এরপর লোকসভাতেও মোদি ম্যাজিক ভ্যানিস হয়ে গেছে। ৪২-আসনের মধ্যে বিজেপির দখলে রয়েছে মাত্র ১২টি লোকসভা আসন।সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সমর্থন তাদের দিকে যে নেই তা স্পষ্ট হয়েছে।তবুও গেরুয়া শিবির সংবাদ শিরোনামে থাকার জন্য কখনও থানা ঘেরাও কখনও নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়ে শোরগোলের শীর্ষে থাকতে চাইছে।

যারজন্য জমি আন্দোলনের জন্মভূমি নন্দীগ্রামে তাঁদের পেশিশক্তির খোলামেলা প্রদর্শন দেখা যায়।কোনওরকম শান্তিশৃঙ্খলার পরোয়া না করেই শুক্রবার থানা চত্বরে তাণ্ডব চালায় গেরুয়া বাহিনী। নন্দীগ্রামের মতোই একইছবি দেখা যায়,হাওড়াতেও। সেখানে বিরোধী শিবিরের কর্মী সমর্থকরা থানায় থানায় ক্ষমতার স্পর্ধা দেখাতে চায়।দাবি এক দফা এক,মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাই এই স্লোগানও শোনা যায়। ক্ষমতার মসনদে বসতে না পারার স্বপ্নপূরণের যেন মরিয়া চেষ্টা দেখা যায়।

অন্যান্য জেলার মতোই বাঁকুড়াতেও বিজেপি কর্মীদের বেপরোয়া আচরণ লক্ষ্য করা যায়।থানার গেট বা চত্বরে গিয়ে সাধারণ মানুষের চলার পথ রুদ্ধ করে গেরুয়া বাহিনী আওয়াজ তোলে।তৃণমূল নেতৃত্বের মতে,বিজেপি নির্যাতন কাণ্ডকে সামনে রেখে আসলে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চাইছে। তারা ক্ষমতা প্রদর্শন করছে আইনশৃ্ঙখলা রক্ষার নজরদারদের মূল কেন্দ্রে।সেই কারণেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বিশৃ্ঙ্খলা  তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

বাংলায় যেকোনও ঘটনা ঘটলেই বিজেপি বদনাম করার জন্য মুখিয়ে থাকে,একথাও তুলে ধরছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।আরজিকরের নৃশংস নির্যাতনও খুনের মতো অপরাধই মানা যায় না। তাই বাংলার সরকার, প্রথম থেকেই অপরাধীকে গ্রেফতার করে। পুলিশ কড়া হাতে পরিস্থিতি সামলাতে চায়। এখন সিবিআই তদন্ত করছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার দরজায় বিচার না চেয়ে রাজ্য পুলিশের আওতায় থাকা থানায় গিয়ে কেন নজরকাড়ার চেষ্টা হচ্ছে? সেই প্রশ্নও তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা। একইসঙ্গে মণিপুর ,হাথরাস, উন্নাওয়ের কথা তুলে ধরে কেন্দ্রের শাসকদের বিঁধছেন বাংলার নাগরিকরাও।

Related Articles