বাঙালি হেনস্থার জেরে মনে বড় ভয়, এবার পেটের টানে মুম্বই পাড়ি ঢাকশিল্পীদের
হানস্থার সংখ্যা বেড়ে চলায় আক্রান্ত বাঙালিরা সিঁদুরে মেঘ দেখছে।
কল্যাণ বিশ্বাস: বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা ভয়ঙ্কর অত্যাচারের মুখে মহারাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।কারণ মারাঠা ভূমে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিন্নাগুড়ির দীপু দাসের মতোই অমানবিক নির্যাতনের ধাক্কায় মৃত্যু হয় হাবরার বাসিন্দা গোলাম মণ্ডলের। একইভাবে রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে নলহাটির নির্মাণ শ্রমিক নইমুদ্দিন শেখের।তালিকাটা বেড়ে চলায় আক্রান্ত বাঙালিরা সিঁদুরে মেঘ দেখছে।
বিজেপির রাজ্যে যেসব বাঙালি খেটেখাওয়া মানুষরা রয়েছে তাঁদের বুকে কাঁপুনি ধরাচ্ছে হিংসাশ্রয়ী আক্রমণকারীদের দুঃসহ স্মৃতি। একের পর এক ঘটনায় আতঙ্কিত এই রাজ্যের বাঙালি ঢাকিরা। প্রতিবারের মতোই এবারও ঢাকশিল্পীরা ঢাকে টান দিয়েছেন। বোল ফোটাতে ব্যস্ত বাংলাভাষিরা।কিন্তু ভয় ধরাচ্ছে,বাংলা বিরোধীদের হাড়হিম করা মারধর,অত্যাচার আর আক্রোশ।অন্যান্য বছর গায়ক অভিজিতের ডাকে সাড়া দিয়ে বাণিজ্যিক নগরীতে পাড়ি দেন।এবারও শিল্পীর সেই ঢাকের ছন্দে ছায়া ফেলছে বিদ্বেষীদের দাদাগিরি।
বিজেপির রাজ্যের পুলিশের অত্যাচার ঢাক শিল্পীদের আতঙ্ক বাড়ছে। বাঙালি হেনস্থা থেকে রেহাই পেতে নাগরিক পরিচয়পত্র নিয়ে মুম্বই পাড়ি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের লিখিত তথ্য নিয়ে ভিনরাজ্যে গেছেন বাংলার শিল্পীরা। বাণিজ্যনগরীর বাঙালিদের পুজোয় ভালবাসার সমাজ গড়ার ডাক দেবেন। বাণিজ্যনগরীতে মোটা টাকা লক্ষ্মীলাভ হবে বলে আশায় বুক বাঁধছেন ঢাক শিল্পীরা।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার অন্তর্গত বাঁশচাতর গ্রাম। এখানকার ঢাকিদের ঢাকের বোলে এঁরা সুরের মূর্ছনা তৈরি হয়, যা মুম্বইবাসী বাঙালিদের আনন্দ মুখর করে। দুর্গাপুজোর সময় বেলডাঙার ঢাকিদের চাহিদা কেবল দেশের সমস্ত সেরা পুজোয় নয়, বিদেশেও থাকে। গ্রামের বিখ্যাত ঢাকি লালু দাস ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্য-সহ লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ,আমেরিকা ও অন্যান্য আরও একাধিক দেশে নিজের দল নিয়ে ঢাক বাজিয়েছেন। বলিউডের বিখ্যাত গায়ক অভিজিৎ ভট্টাচার্যের পুজোয় নাকি লালু দাসের ঢাকের বাজনা না বাজলে পুজো শুরুই হয় না। তাই গত প্রায় ২৮-২৯ বছর ধরে সেখানে প্রতি বছর ডাক পড়ে লালু এবং তাঁর দলের। এবছরও অভিজিতের দুর্গাপুজোয় ঢাক বাজাবেন লালু এবং তাঁর দল। তবে এবছর দিল্লি ,মুম্বই ও অন্যান্য রাজ্যে ঢাক বাজাতে যাওয়ার আগে বাঙালি হেনস্থার শঙ্কা কাটছে না তাঁদের।






