Siuri Chourangi Club: খাঁটি ‘বাঙালিয়ানা’! বাঙালির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব রহস্য লুকিয়ে এই মণ্ডপে
চৌরঙ্গী ক্লাবের এই থিম যেন এক চলমান বাঙালি জীবনচিত্র।
পার্থ দাস, বীরভূম: বাঙালি হেনস্থার প্রতিবাদে সরব সিউড়ির চৌরঙ্গী ক্লাব। তাদের ৪৬তম বর্ষের দুর্গাপূজার থিম হিসেবে বেছে নিয়েছে খাঁটি ‘বাঙালিয়ানা’কে। এই থিমের মাধ্যমে ক্লাবের সদস্যরা বাংলার হারানো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছেন, একই সাথে বাঙালি জাতিসত্তার প্রতি ঘটে যাওয়া হেনস্তার বিরুদ্ধে এক জোরালো বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মণ্ডপে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা এক ভিন্ন মেজাজের সাক্ষী হচ্ছেন, যা দেখতে ইতিমধ্যেই সিউড়িবাসী ভিড় জমাতে শুরু করেছেন (Siuri Chourangi Club)।
আরও পড়ুনঃ জয়ের হ্যাটট্রিক মার্সেইলের, স্ট্র্যাসবর্গকে হারলো ২-১ গোলে
চৌরঙ্গী ক্লাবের এই থিম যেন এক চলমান বাঙালি জীবনচিত্র। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারেই রয়েছে বিভিন্ন লেখক ও মনীষীদের লেখা বইয়ের ভান্ডার, যা বাংলার সাহিত্য ও মননশীলতার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য। ভেতরে প্রবেশ করলে নজরে আসবে বাঙালির চিরন্তন আড্ডার প্রাণকেন্দ্র, চায়ের দোকানের ছবি। এর পাশাপাশি বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্য পটচিত্র এবং বর্ষবরণের চিত্রও স্থান পেয়েছে মণ্ডপ জুড়ে। বিশিষ্ট বাঙালি গায়ক-গায়িকাদের প্রতিকৃতি যেমন রয়েছে, তেমনই বাঙালির প্রিয় সুস্বাদু খাবার রসগোল্লা-ও থিমের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া, বাঙালির শিক্ষাজীবনের প্রথম ধাপ বর্ণপরিচয়-এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে শৈল্পিক উপায়ে। মণ্ডপের প্রবেশদ্বারের পাশেই শোভা পাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তুলসী মঞ্চ, যা বাঙালির প্রাত্যহিক জীবনের অংশ (Siuri Chourangi Club)।
Truth of Bengal fb page: https://www.facebook.com/share/1GbdnH1jqc/
ক্লাব সদস্যরা এই থিমের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন—যেভাবে দিন দিন বাঙালি তার নিজস্ব পরিচিতি হারাচ্ছে বা হেনস্তার শিকার হচ্ছে, তার প্রতিবাদ করতেই এই আয়োজন। তাঁদের কথায়, এই থিমে বাঙালির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বেঁচে থাকার রূপরেখা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ মাসে ১৩ পার্বণের সংস্কৃতি, সাহিত্যিক, সঙ্গীত, খেলা, চায়ের দোকানের আড্ডা—সবকিছুর এক অনন্য মেলবন্ধন। রাত থেকেই এই ‘বাঙালিয়ানা’ থিম দেখতে চৌরঙ্গী ক্লাবে ভিড় জমিয়েছেন সিউড়িবাসী, যা প্রমাণ করে বাঙালি আজও তার শিকড়ের প্রতি কতটা যত্নশীল (Siuri Chourangi Club)।






