কর্মসংস্কৃতিতে বড় বদল, পেপারলেস প্রশাসনের পথে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে
Truth of Bengal: কাগজের ব্যবহার বন্ধ করে এবার সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ বা কাগজহীন কর্মসংস্কৃতির পথে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল দেশের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে এই সংক্রান্ত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের ছুটির দরখাস্ত থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিভাগের অফিশিয়াল কাজকর্ম এবং উপাচার্য বা অধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়া যাবতীয় রিপোর্ট বা আবেদন—সব কিছুর জন্যই একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডি চালু করা হচ্ছে। সমস্ত তথ্য ও আবেদন এখন থেকে শুধুমাত্র অনলাইনেই জমা দিতে হবে এবং প্রশাসনিক কোনও কাজের জন্যই আর কাগজের ব্যবহার করা হবে না।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির প্রশাসনিক স্তরে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল, যেখানে অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করা সম্ভব, সেখানে যেন অযথা কাগজের ব্যবহার করে তা নষ্ট না করা হয়। রাজ্য সরকারের সেই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ডিজিটাল আবেদনে সাড়া দিয়েই এবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সামগ্রিক কার্যপদ্ধতিকে কার্যত কাগজশূন্য করার এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত বিভাগ, দপ্তর এবং ইউনিটকে এখন থেকে তাদের যাবতীয় বক্তব্য, দাবি-দাওয়া কিংবা আবেদন নির্দিষ্ট ইমেল আইডিতে পাঠাতে হবে। এই সমস্ত নথি বা আবেদনপত্রগুলি এক্সেল (Excel) অথবা পিডিএফ (PDF) ফরম্যাটে তৈরি করে জমা দিতে বলা হয়েছে, যা পরবর্তীতে সরাসরি উচ্চশিক্ষা দপ্তরে ফরোয়ার্ড বা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এই ডিজিটাল যোগাযোগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ইমেল আইডিও চালু করা হয়েছে, যা হলো— [email protected]।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে আপাতত রেজিস্ট্রারের অফিস থেকেই এই কাগজহীন ই-অফিসের সমস্ত কাজ শুরু করা হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্ত বিভাগ এবং অ্যাকাডেমিক ইউনিটগুলিতেও এই ‘পেপারলেস’ কর্মপদ্ধতি পুরোপুরি চালু করে দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের ডিজিটাল আহ্বানে সাড়া দিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আধুনিক উদ্যোগকে শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলের অনেকেই সাধুবাদ জানিয়েছেন। এমনিতেও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তির উৎকর্ষ ও আধুনিকতার সঙ্গে সবসময়ই ভারসাম্য রেখে চলে। বিশেষত উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এখানকার পড়াশোনা ও গবেষণার একটি বড় অংশ অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কাগজের ব্যবহার এমনিতেই কিছুটা কম হয়। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজে প্রতিদিন যে পরিমাণ কাগজ নষ্ট হতো, তা রুখতেই এবার গোটা বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ কাগজহীন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, যাদবপুরের এই পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক ডিজিটাল মডেল অনুসরণ করে রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলি আগামী দিনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।






