কলকাতা

সিংহী পার্কে দেখা যাবে রাজস্থানের কাঠপুতলির নাচ

Durga Pujo 2023

The Truth of Bengal: পুজোর ঢাকে বাদ্যি বাজতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রতিবছর সপরিবারে মর্ত্যে আসেন মা দুর্গা। স্বর্গের দেবীরূপে পূজিতা হলেও মা দুর্গা বাঙালির ঘরের মেয়ে। “আশ্বিন মাসে ভগবতী আসেন বাপেরবাড়ি” আর আপামর বঙ্গবাসীও অধীর আগ্রহে দিন গুনতে থাকে। প্রতি বছরই নিত্য নতুন থিমে চমকে দেয় দক্ষিণ কলকাতার ঐতিহ্যবাহী পুজো কমিটি সিংহী পার্ক সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি। এবছর মরুরাজ্য রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী কাঠপুতুলের নাচকে শিল্প মাধ্যম হিসাবে তুলে ধরছে সিংহী পার্ক সর্বজনীন পুজো কমিটি। ৮২তম বছরে তাদের থিম “নক্সীঘরে পুতুলরাজ”।সামগ্রিক বিষয়ভাবনা রূপায়ণের দায়িত্বে রয়েছেন ২ শিল্পী সুমি ও শুভদীপ মজুমদার। সুরের যোগ্য সঙ্গত ছাড়া স্থাপত্যের সত্তা অসম্পূর্ণ।

সুর ও অসামান্য ছন্দের মাধ্যমে আবহ তৈরি করেছেন বিশিষ্ট তবলাবাদক পণ্ডিত শুভেন চট্টোপাধ্যায়। সিংহী পার্কের পুজোয় প্রতি বছরই প্রধান আকর্ষণ থাকে মাতৃরূপ। এবছরও সাবেকি মাতৃপ্রতিমার রূপদান করেছেন ভাস্কর প্রদীপ রুদ্র পাল। পুজোয় যোগ্য সঙ্গত করবে চন্দননগরের আলোকসজ্জা। এলইডির ভিড়ে প্রায় হারিয়ে যাওয়া চন্দননগরের আলোকসজ্জা ফুটিয়ে তুলবে সিংহী পার্কের বিষয় ভাবনাকে।সিংহী পার্ক পুজো কমিটির কর্তা অভিজিৎ মজুমদার জানান, আমাদের এবছর ৮২তম বর্ষ। থিম হিসাবে এবছর আমরা রাজস্থানের কাঠের পুতুলের নাচকে তুলে ধরছি। রাজস্থানের কাঠ পুতুলের নাচ খুবই বিখ্যাত। তার ওপর ভিত্তি করেই এবার আমাদের মণ্ডপ সজ্জা হচ্ছে। আগে আমরা ভারতের বিভিন্ন মন্দিরের অনুকরণে মণ্ডপ তৈরি করতাম। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা সেই বিষয় ভাবনা থেকে সরে এসেছি। আমাদের পুজো তিন রাস্তার মোড়ে হয়। তাই একটা জায়গার সঙ্কুলান হয়।

সে কারণে আমরা আমাদের চিন্তাভাবনাকে সরিয়ে এনে এখন বিভিন্ন রাজ্যের শিল্পকে তুলে ধরি থিম হিসাবে। কুটিরশিল্প হোক কিংবা বিশেষ কোনো শিল্পকলাকে তুলে ধরা হয়। এবছর রাজস্থানের কাঠ পুতুলের নাচকে তুলে ধরা হবে।সারা রাত ধরে মণ্ডপ খোলা থাকে তাই মানুষ দিয়ে পুতুলের লাইভ পারফম্যান্স করা সম্ভব নয়। কিন্তু বিদ্যুতের সাহায্যে নড়াচড়া করবে কাঠের পুতুলগুলো। এক চালার সাবেকি সনাতনী মাতৃপ্রতিমা গড়ছেন ভাস্কর প্রদীপ রুদ্র পাল। মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকছে প্রতিমার সজ্জাতেও। চন্দননগরের আলোকসজ্জার মাধ্যমে মঙ্গলঘট, সিঁদুরকৌটোর মতো মাঙ্গলিক নানান জিনিস ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। “রাজস্থানের সুপ্রাচীন কাভাড শিল্প এবার দেখা যাবে সিংহী পার্কের পুজো মণ্ডপে। কুমাওয়াতস সম্প্রদায়ের হাত ধরে রাজস্থানের উদয়পুরের কাছে ভিলওয়ারা জেলার ছোট্ট গ্রাম “বাসি” তে প্রাচীন কাভাড শিল্পের সূচনা হয়। এই শিল্পের বয়স নয় নয় করে ৪০০ বছর। এবার সিংহী পার্কের মণ্ডপ সেজে উঠবে কাভাডের নক্সীঘর হিসাবে। সেখানে সুরের মূর্চ্ছনায় চলবে কাঠ পুতুলের নাচ।

Free Access

Related Articles