কলকাতা

বৃষ্টির জেরে পিচ্ছিল রাস্তা, মা উড়ালপুলে নিয়ন্ত্রণ হারাল সেনাবাহিনীর ট্রাক

বিশেষ করে মোটরবাইক আরোহীদের দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই সামনে এসেছে—কখনও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং টপকে নিচে পড়ে মৃত্যু, কখনও আবার চিনা মাঞ্জায় গুরুতর আহত হওয়ার নজির রয়েছে।

Truth Of Bengal: ভোরের আলো ফোটার আগেই আবারও দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল মা উড়ালপুল। সকালবেলার ব্যস্ততা শুরু হওয়ার ঠিক আগে বৃষ্টিভেজা রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেনাবাহিনীর ট্রাক ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রাকটি সায়েন্স সিটি দিক থেকে পার্ক সার্কাস অভিমুখে যাচ্ছিল। আচমকা পিছলে গিয়ে সেটি রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার জেরে ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তবে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গেছে। গাড়িতে থাকা তিন জওয়ানের মধ্যে দু’জন আহত হলেও কারও মৃত্যু হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারাই দ্রুত উদ্ধারকাজে নেমে আহতদের হাসপাতালে পাঠান।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী সোমবার রাত থেকেই শহরে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সেই বৃষ্টির জেরেই রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়ে বলে প্রাথমিক অনুমান। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টো লেনে উঠে যায় এবং প্রবল ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই উড়ালপুলে অতীতেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে মোটরবাইক আরোহীদের দুর্ঘটনার ঘটনা প্রায়ই সামনে এসেছে—কখনও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেলিং টপকে নিচে পড়ে মৃত্যু, কখনও আবার চিনা মাঞ্জায় গুরুতর আহত হওয়ার নজির রয়েছে। দুর্ঘটনা কমাতে একসময় রাত ৯টার পর বাইক চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নির্দেশে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।

তবে সেনাবাহিনীর ট্রাক দুর্ঘটনার ঘটনা এই উড়ালপুলে খুব একটা শোনা যায়নি। তাই এদিন সকালে ঘটনাটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, কী কারণে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারাল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সকালের চূড়ান্ত যানজট শুরু হওয়ার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটায় বড় ধরনের ট্রাফিক সমস্যা তৈরি হয়নি। যদিও কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক সরিয়ে ফেলে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ডিসেম্বরেও একই উড়ালপুলে একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। পরে সেটি উল্টো লেনে উঠে এসে অন্য একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং সেই সংঘর্ষে একটি বাইকও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাইক আরোহী গুরুতর আহত হন। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় সেই দুর্ঘটনা ঘটেছিল।

Related Articles