কলকাতা

বিদায়ক্ষণে মন খারাপ বাংলার, আবেগঘন শেষ যাত্রায় জনপ্লাবন

A different emotion can be observed in Buddhadev Bhattacharya's final journey

The Truth of Bengal: স্বপ্নের কারিগর বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শেষযাত্রায় আলাদা আবেগ লক্ষ্য করা যায়। তিলোত্তমার রাজপথে জনতার ঢল জানান দেয়, মনের মানুষ চলে যাওয়ায় বাংলার মন খারাপ। রাজনীতির বৃত্তের মানুষেরাও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিদায়বেলায় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।প্রবীণ নেতা বা যুব-ছাত্ররা মন শক্ত করে শেষবিদায় জানালেও সাধারণ মানুষের চোখে জল দেখা যায়। একসময় বুদ্ধবাবু মনের কথা বলতে গিয়ে জানান,একজন ভালো মানুষ হিসেবে তাঁকে মনে রাখুক বাংলা। অন্তিম যাত্রায় সামিল অগণিত মানুষ বুঝিয়ে দেন,বঙ্গবাসীর যিনি স্বপ্নের দিশারী ছিলেন,তাঁকে তাঁরা মনে রাখতে চান। বুদ্ধ আবেগে ভাসল কলকাতার রাজপথ।রাজনীতির বৃত্তের মানুষকে নাড়া দেয় ধোপধুরস্ত সাদা পোশাকের একজন স্বচ্ছ মানুষের ইমেজ।যিনি আমজনতার মনের মানুষ হয়ে উঠতে সাদাকালো জীবন দর্শনকেই পাথেয় করেছিলেন।মার্কস-অ্যাঙ্গেলস-লেনিনের দ্বদ্বমূলক বস্তুবাদের ভাবনায় বুঁদ, বুদ্ধদেব বরাবরই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আড়ম্বর ত্যাগ করতেন। এককথায় মানবিক আদর্শে বিশ্বাসী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বিদায়বেলায় আবেগের বন্যা দেখা যায়।

শাসকদলের মতোই বিরোধীদের কর্মী সমর্থকরা এই অন্তিম সময়ে সামিল হন।কেউ আক্ষেপ বুকে নিয়ে প্রিয় নেতার অতীত আন্দোলনের কথা মনে করেন,কেউ আবার ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বুদ্ধ-দর্শনকে পাথেয় করার পণ করেন।রাজনীতির বাইরের মানুষও তাঁকে চোখের জলে বিদায় জানান। কাতারে কাতারে মানুষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কুর্নিশ জানাতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে হাজির হন।সর্বস্তরের মানুষের ভিড় দেখেও প্রিয় মানুষকে শ্রদ্ধা জানানোর আগ্রহ দেখে  বিকেল ৪টে  পর্যন্ত তাঁর দেহ মুজাফফর আহমেদ ভবনেই রাখার সিদ্ধান্ত নেন সিপিআইএম নেতৃত্ব।এর আগে ঠিক হয়,দুপুর ৩টে ১৫মিনিট পর্যন্ত দেহ রাখা থাকবে।কিন্তু জনতার প্রত্যাশার চাপ বুঝেই সময় বাড়ানো হয়।এরপর বুদ্ধবাবুর দেহ দীনেশ ভবনে আনা হয়।সেখানে ছাত্র-যুবদের উচ্ছ্বাস-আবেগ বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।তরুণ তুর্কিরা লাল সেলাম জানান তাঁদের পূর্বসুরীকে।এরপর দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মেনে,শেষযাত্রা শুরু হয় দীনেশ ভবন থেকে।বুদ্ধবাবুর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিয়ে দেহ নিয়ে যাওয়া হয়  নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

শববাহী শকট যত এগিয়ে যায়,ততই মানুষের শোকাচ্ছন্ন পদযাত্রার গতি শ্লথ হয়। জনতার সঙ্গেই পদযাত্রায়  সামিল হন মহম্মদ সেলিম, সুজন চক্রবর্তী, বিকাশ ভট্টাচার্যের মতো নেতারা। শুধু  বামফ্রন্ট নয়, অন্য  দলের নেতাদেরও দেখা যায় শেষযাত্রায়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ মতো মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম,অরূপ বিশ্বাস সুষ্ঠুভাবে সবকিছু সম্পন্ন করার জন্য তদারকি করেন।সিপিএমের নেতাদের কথামতো আয়োজন করা হয় এই বিদায়যাত্রা। পিস ওয়ার্ল্ড থেকে বিধানসভা,বিধানসভা থেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট,আর আলিমুদ্দিন স্ট্রিট হয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শকটবাহী দেহ যখন এনআরএসে নিয়ে যাওয়া হয়,তখন সবার চোখই ছলছল করছিল। কেউ কেউ শোকবিহ্বল হয়ে পড়লেও  চোখের জল ফেলতে পারেননি। দলের নেতা-কর্মীরা অনেকেই বলেন,তাঁদের আত্মীয় বিয়োগ হয়েছে। লাল ব্রিগেডের নেতা কর্মীদের মতোই  বাংলার আপামর সাধারণ মানুষও আদ্যোপান্ত বাংলা সংস্কৃতিও সাহিত্য চর্চায় অভ্যস্ত সত্-শৃ্ঙ্খলাপরায়ণ মানুষকে হারিয়ে শূন্যতা অনুভব করছেন বলে বলে ওঠেন। একসময় বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন,তাঁকে বাংলার মানুষ একজন ভালো মানুষ হিসেবে মনে রাখুক।বাম শিবিরের বাইরের মানুষের মতোই রাজনীতির বৃত্তে না থাকা মানুষই বলছেন,বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য থেকে যাবেন জনমনে।কেউ কেউ  ,জীবনানন্দের ভাষায় বলে ওঠেন, আবার আসিব ফিরে এই ধারসিরিশির তীরে এই ইচ্ছেও যেন পূরণ হয় তাঁর।

Related Articles