ফুলসজ্জার রাতেই সব শেষ! কনের মুখে অন্য প্রেমের কথা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল বরের
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিয়ের আসর থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকাপাকিভাবে আলাদা হয়ে যান নবদম্পতি।
Truth of Bengal: বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই বিচ্ছেদ। উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে ঘটে যাওয়া এক নাটকীয় ঘটনা বর্তমানে সমাজমাধ্যমে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পরেই নিজের নতুন বৈবাহিক জীবন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন এক তরুণী। ফুলসজ্জার রাতে স্বামীর কাছে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এই বিয়েতে তাঁর কোনো সম্মতি ছিল না এবং তিনি অন্য একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিয়ের আসর থেকে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকাপাকিভাবে আলাদা হয়ে যান নবদম্পতি।
হামিরপুরের ধরম সিংহ কুশওয়ারের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল মিথিলেশ কুমারীর। উৎসবের আমেজ কাটিয়ে নববধূ যখন শ্বশুরবাড়িতে পা রাখেন, তখন সবাই ভেবেছিলেন এক নতুন অধ্যায়ের শুরু হতে চলেছে। কিন্তু প্রথম রাতেই দৃশ্যপট বদলে যায়। মিথিলেশ তাঁর স্বামীকে সাফ জানান, তিনি কোনোভাবেই এই সংসার করবেন না। স্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে প্রথমে হতবাক হয়ে গেলেও পরে সবটা জানতে পারেন ধরম। মিথিলেশের অভিযোগ, তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে এবং পরিবারের চাপে তাঁকে এই বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি বিয়ের আগে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আগে থেকেই অন্য একজনকে ভালোবাসতেন এবং পরিবারকে সে কথা জানালেও কেউ কর্ণপাত করেনি। অন্যদিকে, ধরম হতাশা প্রকাশ করে জানান, মিথিলেশ যদি বিয়ের আগে একবারও তাঁর আপত্তির কথা জানাতেন, তবে দুই পরিবারকে আজ এমন সামাজিকভাবে অপমানিত হতে হতো না।
শেষ পর্যন্ত জট কাটাতে দুই পরিবার হামিরপুরের রথ থানার দ্বারস্থ হয়। পুলিশ আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ নবদম্পতিকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও মিথিলেশ নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, স্বামীর সঙ্গে সংসার করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। থানার ইনচার্জ রাকেশ সিংহ জানান, তরুণী নিজের অবস্থানে অটল থাকায় শেষ পর্যন্ত দুই পরিবারের সম্মতিতে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। থানা থেকেই মিথিলেশ আর শ্বশুরবাড়ি না ফিরে সরাসরি বাপের বাড়িতে চলে যান। কয়েক ঘণ্টার এই দাম্পত্যের এমন পরিণতি দেখে কার্যত বাকরুদ্ধ দুই গ্রাম।





