দেশ

আদালতেই অঝোরে কান্না কেজরিওয়ালের! আবগারি মামলায় সসম্মানে মুক্তি পেয়ে কী বললেন আপ সুপ্রিমো?

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দুর্নীতির অভিযোগের কালি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল আপ নেতৃত্বাধীন দিল্লির শীর্ষ নেতাদের গা থেকে

Truth of Bengal: দিল্লির বহুল চর্চিত আবগারি দুর্নীতি মামলা থেকে অবশেষে সসম্মানে মুক্তি পেলেন আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া। শুক্রবার দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউ কোর্ট এই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে, দিল্লির বিতর্কিত আবগারি নীতির নেপথ্যে কোনো প্রকার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র বা অসৎ উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর ফলে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর দুর্নীতির অভিযোগের কালি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গেল আপ নেতৃত্বাধীন দিল্লির শীর্ষ নেতাদের গা থেকে।

২০২৫ সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এই আবগারি নীতিই ছিল বিরোধীদের প্রধান হাতিয়ার। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, এই নতুন নীতির ফলে দিল্লির সরকারি কোষাগারের প্রায় ২ হাজার ২৬ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এই দুর্নীতির অভিযোগে কেজরিওয়াল ও সিসোদিয়া সহ মোট ৪০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে সরাসরি আম আদমি পার্টিকেও অভিযুক্তের তালিকায় রাখা হয়। এই মামলার জেরেই অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে জেল খাটতে হয়েছিল এবং জেল থেকে ফেরার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছিলেন। মণীশ সিসোদিয়া সহ একাধিক মন্ত্রীকেও দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকতে হয়েছে।

তবে মামলা চলাকালীন ইডি বা সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি দুর্নীতির সপক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়। একে একে সব অভিযুক্তই জামিন পেতে শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত শুক্রবার আদালত তাঁদের এই মামলা থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দিয়ে দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে কেজরিওয়াল ও তাঁর সতীর্থদের বিরুদ্ধে ওঠা পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল। রাউত অ্যাভিনিউ কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় শোনার পর নিজেকে সামলাতে পারেননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এজলাসেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। চোখের জল মুছতে মুছতে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, তিনি সবসময়ই নিজেকে কট্টর সৎ মানুষ বলে দাবি করে এসেছেন এবং আজ আদালত সেই সততার শংসাপত্র দিল।