দেশ

রাজ্যসভায় তুমুল হট্টগোল! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পেশ করা সিএপিএফ বিলের বিরোধিতায় তৃণমূলের ওয়াকআউট

বিরোধীদের অভিযোগ—বিলটি পেশের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সাংসদদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি

Truth of Bengal: নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) সংক্রান্ত প্রস্তাবিত বিল ঘিরে রাজ্যসভায় তুমুল উত্তেজনা। বিল পেশের প্রক্রিয়ায় সংসদীয় নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। সোমবার সংসদের কার্যসূচিতে এই বিল পেশ হওয়ার কথা ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র এই বিল পেশ করার কথা থাকলেও, বিরোধীদের অভিযোগ—বিলটি পেশের অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে সাংসদদের কোনও নোটিস দেওয়া হয়নি। সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, বিলের কপি আগেভাগে সাংসদদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলেই দাবি বিরোধীদের।

এই ইস্যুতে রাজ্যসভায় সরব হন তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচিত সংসদে মনোযোগ দেওয়া। কিন্তু তারা বাংলায় অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালাতে ব্যস্ত। সংসদে কী চলছে? তাঁর এই বক্তব্যের পরই তৃণমূল সাংসদরা ওয়াকআউট করেন। বিলটিকে ঘিরে বিরোধী শিবিরের আরও অভিযোগ, এটি ‘অবৈধ’ ও ‘অসাংবিধানিক’। প্রস্তাবিত আইনে সিএপিএফ বাহিনীতে আইপিএস অফিসারদের জন্য আইজি স্তরের ৫০ শতাংশ পদ সংরক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের মতে, এতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিজস্ব ক্যাডারদের পদোন্নতির সুযোগ কমে যাবে।

এছাড়া বিরোধীদের দাবি, এই প্রস্তাবিত আইন সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের বিরোধী। ২০২৫ সালের এক রায়ে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিজস্ব ক্যাডারদের শীর্ষপদে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছিল। সব মিলিয়ে সিএপিএফ বিল ঘিরে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ভোটের আবহে এই ইস্যু রাজনৈতিক তরজাকে আরও উসকে দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Related Articles