ব্যবসা

অল্প পুঁজিতেই শুরু করতে পারেন মৌমাছি চাষের ব্যবসা, সাফলে আসবে এক বছরেই

how to start beekeeping business

The Truth of Bengal: কিভাবে মৌমাছি চাষের ব্যবসা শুরু করবেন?

গত কয়েক বছরে কয়েকগুন বেশি মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে মধু চাহিদা। মূলত স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্যই বহু বাড়িতেই প্রায় সারা বছর মধুকে ব্যবহার করা হয়। আর এই চাহিদার কারণে, অনেকেই ঝুঁকছেন মধু ব্যবসায়। যেহেতু মধু এবং মোমের চাহিদা সারাবছর থাকে, তাই বর্তমানে ভারতবর্ষে অফবিট এবং চমকপ্রদ ব্যবসা গুলির মধ্যে অন্যতম মৌমাছি চাষ। খুব বেশি পরিমাণ পুঁজি লগ্নি না করেই এই ব্যবসা শুরু করা যায়। পরে আয় যেমন বাড়বে, তেমন ভাবেই লগ্নি করে এর প্রসার বাড়ানো যেতে পারে। ভারতের দু তিনটি ব্র্যান্ড রয়েছে, যাঁরা উচ্চ মানের মধু বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া দেশ ছাড়াও বিদেশে অনামী ব্রান্ডেরও একটা বড় বাজার রয়েছে। ফললে সঠিক দাম এবং পণ্যের মান যদি ঠিকঠাক ধরে রাখা যায়, এক বছরের মধ্যে বড় সাফল্য মেলে। তবে প্রথম দিকে মধু ব্যবসার জন্য একটি মার্কিং করতে হবে। আর এখনকার অনলাইন বাণিজ্যের ফলে, বাজার অনেকটাই বড় হয়ে গিয়েছে। ফলে ক্রেতা পেতে কোনও অসুবিধা হয় না।

মধু ব্যবসা শুরু করার প্রথম ধাপ

মৌমছি প্রতিপালনের ক্ষেত্রে কয়েকটি প্রাথমিক তথ্য জেনে রাখা জরুরি। যেমন একটি বাক্সে সাধারণত ২ থেকে ৪ লক্ষ পর্যন্ত মৌমাছি থাকে। সেখান থেকে  ৪-৫ কেজি ভালো মধু পাওয়া যায়। প্রতিটি বাক্সে ৯ টি বা ১০টি ট্রে থাকে। সেখানে শ্রমিক মৌমাছির সংখ্যা বেশি থাকে এবং রানী মৌমাছির সংখ্যা একটি থাকে। পুরুষ মৌমাছিরা ডিমগুলি নষ্ট করে দেয় এবং  অনেকসময় এই মৌমাছি গুলি মধু খেয়ে নেয় বলে সেগুলিকে বাক্সে বেশি রাখা হয় না। প্রথমে বলে রাখা ভালো, বলি মৌমাছি চাষের জন্যে কয়েকটি কাঠের বাক্সের প্রয়োজন। মৌমাছির বংশবৃদ্ধি  যেহেতু তাড়াতাড়ি হয়, তাই ২টি বাক্স থেকে মৌমাছি চাষ শুরু করা যেতে পারে। তারপর কয়েক মাসের মদ্যে সেটা ৬ টা বা ৭ টা বাক্স হয়ে যাবে।  যদি সিরিয়াসলি এই ব্যবসা করতে চান তাহলে প্রথম থেকেই ৮-৯ টি বাক্স কিনে ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এই ব্যবসার সুবিধা হল, বছরে ৬ মাস কাজ করেই ভালো টাকা উপার্জন করা যায়।

আরও পড়ুন- স্বল্প পুঁজিতে শুরু করুন মাশরুমের ব্যবসা, বিপুল আয়ের সুযোগ

তবে প্রথমে কিছু ভাল মৌমাছি সংগ্রহ করে একটি নিউক্লিয়াস কলোনি দিয়ে শুরু করতে হবে। যেহেতু খুব তাড়াতাড়ি মৌমাছি সংখ্যায় বাড়ে তাই শুরুতে সর্বনিম্ন কলোনি দিয়ে শুরু করাই শ্রেয়। দুটি মধু মৌমাছির কলোনির অভিজ্ঞতা অর্জনের পরে, বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালনের কাজ শুরু করা যেতে পারে। তাহলে ঝুঁকি কম থাকবে।

আবহাওয়া এবং পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়

মৌমাছি চাষের সঙ্গে আবহাওয়ার একটা ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে একমাসে ৪ থেকে ৫ বার টান হয়, আর প্রতিবারের এক টিন করে মধু পাওয়া যায়। বাক্সের পরিমাণ যত বাড়বে মধুর পরিমান ও ততো বাড়বে। তবে মনে রাখা উচিৎ, মৌমাছির বিভিন্ন ধরণের রোগ হয়, একটু পড়াশুনা না করলে এই রোগ গুলি কি তা বোঝা যাবে না। তাই প্রতি মাসে বাক্স থেকে ট্রে গুলোকি বের করে দেখতে হবে মৌমাছি গুলি সুস্থ রয়েছে কিনা। কোনো রোগ হলে দেরি না করে পদক্ষেপ করতে হবে। মনে রাখবেন, মৌমাছির সুস্থতার উপরেই নির্ভর করে মধুর পরিমান ও গুনগত মান। এই চাষে বা ব্যবসায় বড় ঝুঁকির সমস্যা না থাকলেও সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ। বেশিরভাগ মৌমাছি পালনকারী প্রতি বছর / মরসুমে 2-3 বার মধু সংগ্রহ করেন।

কেন এই ব্যবসা ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হচ্ছে?

মৌমাছি পালন করার ব্যবসাটি অতি অল্প সময়ে আপনাকে সাফল্য এনে দিতে পারে। মধুর স্বাস্থ্যগত সুবিধা এবং গুণগত মান বাজারে খুব বেশি এবং পুজো বা যে কোনও অনুষ্ঠানে প্রয়োজন হয়, তাই সারাবছরই এর চাহিদা রয়েছে। এই ব্যবসার ক্ষেত্রে  হোলসেল মার্কেট থেকে সহজেই মধু বিক্রি করা যায়। আর খুব কাঁচামাল কেনারও প্রয়োজন হয় না। তবে ব্যবসায়ী স্কেল করতে চাইলে, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং মার্কিটিঙে জোর দিতে হবে। প্রশিক্ষণের জন্য যোগ দিতে পারেন স্টেট বি কিপিং এক্সেটশন সেন্টারে। বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করতে পারেন।