রাজ্যের খবর

দেখতে দেখতে পার ২৭১ বছর, গাঙ্গুলি বাড়িতে এখনো তালপাতার পুঁথি মেনেই হয় পুজো

You can see that 271 years later, Puja is still performed in Ganguli's house with palm leaves

Truth Of Bengal: তালপাতার পুঁথি দেখেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম রীতি-নীতি মেনে চলছে মহামায়ার পুজো। দেখতে দেখতে ২৭১ বছর ধরে চলেছে তেহট্টের গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারের পুজো।

কয়েক প্রজন্ম আগে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবারে অবিনাশ গঙ্গোপাধ্যায় স্বপ্নে দেবী দুর্গার আদেশ পান। সেখানে তিনি মায়ের যে রূপ দেখতে পেয়েছিলেন, সেই রূপেই মূর্তি গড়েন। তারপরেই শুরু হয় মহামায়ার পুজো। তবে শুরুতে এই পুজোর আয়োজন করা হয় হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে, কিন্তু  পরে পরিবার তেহট্টে চলে এলে সেখানেই নতুন করে শুরু হয় গঙ্গোপাধ্যায় বাড়ির পুজো।

আষাঢ় মাসে বাঁশ কেটে তৈরি করা হয় বাঁশ দেবীর কাঠামো। জন্মাষ্টমীর দিন চন্ডীপাঠের মাধ্যমে শুরু হয় এই মূর্তি নির্মাণের কাজ। বংশ-পরম্পরায় এক মৃৎশিল্পীর পরিবার দুর্গা মতি তৈরি করে। একই নিয়মে ঢাকিও বংশপরম্পরায় এই পুজোতে অংশ নিয়ে চলেছেন। বধনের দিন থেকে এইবাড়ির পুজো শুরু হয়, তারপর ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় বহুমূল্য অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে দেবীকে সুন্দর করে সাজানো হয়। সপ্তমীর সন্ধ্যায় অর্ধরাত্র পুজো চলে।

এর পর ১০৮ ঘড়া জল দিয়ে অষ্টমীর সকালে স্নান করানো হয় দেবীকে, সন্ধ্যায় বন্ধুকের তোপ ধ্বনির মাধ্য দিয়ে সন্ধ্যা আরতি করা হয়, অষ্টমীতে দুর্গা সহস্র শ্লোক পাঠ করে মহামায়ার পুজো শেষ করা হয়। এরপর নবমীর দিন এই বাড়ির মহামায়াকে দেয়া হয়  ছাপ্পান্ন ভোগ। তারপর নবমীর পুজো শেষ হয় সপ্তশর্তী যজ্ঞের মাধ্যমে। সবশেষে দশমীর দিন নিয়ম মেনে পুজো সেরে জলঙ্গি নদীতে বিসর্জন দেয়া হয় মহামায়াকে।

বর্তমানে এই পুজার পরিচালনা করে চলেছেন পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় ও সুস্নাত গঙ্গোপাধ্যায়। এ বিষয়ে সুস্নাতবাবু জানান, “বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর ধরে একই রীতিরেওয়াজ মেনেই এই পরিবারে মহামায়ার পুজো হয়ে আসছে। কোনও পরিবর্তন হয়নি। মৃৎশিল্পীরাও বংশপরম্পরায় প্রতিমা তৈরি করে চলেছেন। পাশাপাশি ঢাকিও রয়েছে একই নিয়মে। পরিবারের পুজো এখনও বাড়িতে সংরক্ষিত তালপাতার পুঁথি মেনেই হয়।”

Related Articles