দেশ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইটালি থেকে কী এনেছিলেন ?

What did Prime Minister Narendra Modi bring from Italy?

The Truth Of Bengal: ভারতে একাধিকবার প্রতিরক্ষা কেলেঙ্কারি সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে।বোফর্স কেলেঙ্কারির পর আরও অনেক চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।একসময় ইটালির কথাও এই প্রসঙ্গে আলোচিত হত।ইটালির সেই প্রসঙ্গ মোদি সরকারের তৃতীয় দফায় উঠে আসছে  বলে সূত্রের খবর। এই বিষয়ে বিশদে বলতে গেলে মোদির প্রথম দফার সরকারের কথা বলতে হবে। ২০১৪-র ২৬মে প্রধানমন্ত্রী পদে মোদি বসার আগে ইটালির একটি আদালত গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়,যেখানে ৪ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সেই ঘুষের অভিযোগের তালিকায় ছিলেন ইটালির এক প্রতিরক্ষা সংস্থার সিইও,২জন মিডলম্যান । কিন্তু সেসময় অভিযুক্তদের পুরো বয়ান,আবেদনের বিষয়বস্তু বা বিচারপতিদের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিষয়টি সর্বসমক্ষে আনা হয়নি। শোনা যায়,বেশ কিছু নাম ফাঁস হলে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন পড়ে যেত। ২০১৩-য় ভারত সরকারের চাপে বিষয়টি চেপে যাওয়া হয় বলে কোনও কোনও মহলে অভিযোগ করা হয়।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সেইসব গোপন  তথ্য  সামনে এলে পুরো লেনদেনের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যেত। ৬০০কোটি টাকারও বেশি  অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি চপার কেলেঙ্কারিতে সেসময় কোন কোন রাজনৈতিক নেতার পরিবার বা মিডলম্যান উপকৃত হয়েছিলেন তা সবাই জেনে ফেলতো।জানা যায়,ইটালির আদালতে পেশ করা গোপন তথ্যে  ঘুষ কারা দিয়েছিল বা কে কে ঘুষ নিয়েছিল তার উল্লেখ আছে।সেই গোপন ও বেআইনি ঘুষের কারবারে ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা জড়িত বলে জানা যায়। কেন্দ্রীয় সরকারের   উচ্চ স্তরীয় বিভাগের গোপন সূত্রে জানা যাচ্ছে,তদন্ত ও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিভিআইপি চপার কেলেঙ্কারির ঘটনায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ আমলের  বাঘা বাঘা নেতাদের কথাও নাকি ধরা পড়েছে। তাই মোদির ইটালি  সফরের পর সেই বিষয়টি গতি পেয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্র মারফত আরও জানা যাচ্ছে,ইটালি তাঁদের আদালতের ২২৫পাতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য নাকি ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।যার ফলে অনেক নেতার রাজনৈতিক জীবনে ধাক্কা লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নাকি ভীষণ আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন।ইটালিতে  বক্তব্য পেশের সময় তাঁর স্বতস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া ছিল,তিনি কখনও এভাবে খুশি হননি। এই প্রসঙ্গে বলতে গেলে,২০১৩-সালের ঘুষ কেলেঙ্কারির কথা তুলে ধরা প্রয়োজন।সেসময় অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ডের সিইও ব্রুনো স্পাগনোলিনির নামও জড়িয়ে যায় ঘুষ কেলেঙ্কারিতে। অগস্টা ইটালিয়ান কোম্পানির মূল সংস্থা  ফিনমেক্কানিকার চেয়ারম্যান  গুইসেপে ওরসির বেআইনি লেনদেনে নাম জড়ায়।   গুইডো হাসচকে এবং কার্লো গেরোসার মতো মিডলম্যানকেও ইটালির মিলানের আদালত অভিযুক্ত করে। আন্তর্জাতিক দুর্নীতি,ঘুষ,অর্থ তছরূপের মতো ঘটনা  এখনও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে ক্রমশ।

ভারতের কারা ঘুষের কারবারে জড়িত ?

ইটালির আদালতের বিচারে স্পষ্ট হয় ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং ভারতের একটি অন্যতম রাজনৈতিক পরিবারের প্রধানের নাম।২২৫পাতার বিচারে উঠে আসে ঘুষের নানা তথ্য। ওরসি এবং অন্যরা স্বীকার করে নেয়,কিভাবে ভারতীয় রাজনীতিক ও লবির লোকেদের ঘুষ দেওয়া হয়। এমনকি সেই বিচার প্রক্রিয়ায় ধরা পড়ে,একটি রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাকি এই ঘুষের লেনদেনে জড়িত। ভারতের সেই বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের পরিবারের নাম ৪বার উল্লেখ করা হয়,১৯৩ও ২০৪ পাতায় দুবার উল্লেখ করা হয়েছ বলে ইটালির আদালতের রায়দানের কথা উদ্বৃত করে জানিয়েছে একটি সূত্র। ইউপিএ আমলে কপ্টার কেলেঙ্কারিতে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর পরিবার জড়িত বলেও জানা গেছে। গোপন তথ্যে নাকি এরকমটাও জানা গেছে, ১৪থেকে ১৬মিলিয়ন ইউরো দেওয়া হয়েছিল ভারতীয় রাজনীতিকদের।চাঞ্চল্যকর কথ্য মেনে ১৬৩ নম্বর পাতায়  ‘এপি’ বলে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে।এছাড়াও ১৬৩ নম্বর পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে,ওরসির লেনদেনের সূত্র ধরেই ইটালির প্রধানমন্ত্রী মারিও মন্টি,ইটালির আমলা এবং রাষ্ট্রদূত পাসকুয়েল টেররাসিআয়োনো নিয়মিত তত্কালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করতেন।এই অবস্থায় গোপন তথ্য বেরিয়ে এসেছে যে মোদির প্রধানমন্ত্রীর কার্যকাল শুরুর আগে তত্কালীন ভারত সরকার বড়সড় এই দুর্নীতি চাপা দেওয়ার জন্য পাহাড়প্রমাণ চাপ তৈরি করে বিদেশী রাষ্ট্রের ওপর। এখন সেই দুর্নীতির ভিতরকার কঙ্কালসার চেহারাটা প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বিচারপ্রক্রিয়া পৌঁছেছে কোন পর্যায়ে

এই কেলেঙ্কারির খাতা ওল্টাতে গেলে ফিরে যেতে হবে ২০১৯ সালে।সেসময় ইডি  অগস্টা ওয়েস্টল্যান্ড কেলেঙ্কারির চার্জশিটে  কংগ্রেসের প্রধান সোনিয়া গান্ধীর ঘনিষ্ঠ এবং দীর্ঘদিনের কংগ্রেসের রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যাটেলের নাম উল্লেখ করে ।  এরপরই দেরাদুনের একটি নির্বাচনী সভায় মোদি নিশানা করেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে।তিনি বহু কোটি টাকার ভিভিআইপি চপার কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার অভিযোগ করে কংগ্রেস নেতাদের তুলোধনা করেন। এরপর ২০১৮ সালে ভারত সরকার,কপ্টার কেলেঙ্কারির মিডলম্যান খ্রিস্টিয়ান মাইকেল জেমসকে ভারতে আনতে সমর্থ হয়। দুবাই থেকে তাঁকে এদেশে আনা হয় রাজীব সাক্সেনার সঙ্গে। সিবি্আইয়ের তথ্যেও এই বহু কোটি টাকার কেলেঙ্কারির বিষয় উঠে আসে।এখন এই কপ্টার কেলেঙ্কারি নিয়ে কী তথ্য বেরিয়ে আসে তাই দেখার।

Related Articles