কলকাতা

“প্রাণ বাঁচাতে বেসরকারি হাসপাতালে পাঠিয়েছিলাম!”, চোরবাগান কাণ্ডের রেফার বিতর্ক নিয়ে বড় সাফাই মুখ্যমন্ত্রীর!

ডিউটি ছেড়ে রেফার নিয়ে মুখ খোলা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি! স্বাস্থ্যভবনে চরম চাঞ্চল্য

Truth of Bengal: মহানবমীর রাতে উৎসবের শেষ মুহূর্তের আনন্দ ও সাজস্রোতের মধ্যেই হঠাৎ রাজ্যের স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুমে আচমকা পরিদর্শনে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেখানে কন্ট্রোল রুমের জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসাকেন্দ্র ও রোগীর পরিস্থিতি সরাসরি নজরদারি চালান তিনি। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন মণ্ডপের মর্মান্তিক পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রেফার করা নিয়ে চলা সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ সাফাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

চোরবাগানের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর আহতদের কেন তড়িঘড়ি বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, সেই ব্যাখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, মৃতের সংখ্যা আর যাতে না বাড়ে, সেই উদ্দেশ্যেই ঘটনাস্থল থেকেই আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, “বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নতুন করে আর একজনেরও মৃত্যু হয়নি। আমরা যদি সঠিক সময়ে এই সিদ্ধান্ত না নিতাম, তবে হয়তো মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ত।”

পাশাপাশি রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে এখনও কিছু ঘাটতি ও পরিকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালের মতো উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে, কারণ বর্তমান সরকারের বয়স সবেমাত্র ছ’মাস হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে যে সরকার বদ্ধপরিকর, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতালের রেফার রোগ ও তা নিয়ে ডাক্তার বা জুনিয়র চিকিৎসকদের একাংশের মন্তব্য প্রসঙ্গেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, যে সমস্ত চিকিৎসক বা জুনিয়র চিকিৎসকরা রেফার বা অন্যান্য বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন, তাঁরা সেই সময়ে আদতে নিজেদের ডিউটিরত ছিলেন কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হোক। ডিউটির সময় নিজেদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য ছেড়ে এই ধরণের কাজে যুক্ত থাকা যেমন নিয়মের পরিপন্থী, তেমনই মানবিকভাবেও তা সম্পূর্ণ অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মহানবমীর রাতে স্বাস্থ্যভবন থেকে প্রশাসনিক শীর্ষকর্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর এই কড়া বার্তা ও নজরদারি রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Related Articles