শপিং মলে ঘি ও তেল চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মহিলা, ভিডিও ভাইরাল!
হাতে দামি ফোন, মুখ ঢেকে দৌড়! ডিএলএফ মলে কেন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস চুরি করতে গেলেন তিনি?
Truth of Bengal: দিল্লির সংলগ্ন নয়ডার বিলাসবহুল ‘ডিএলএফ মল অফ ইন্ডিয়া’ (DLF Mall of India)। প্রতিদিনের মতোই জমজমাট কেনাবেচা চলছিল শপিং মলে। আচমকাই মলের একটি নামী সুপারমার্কেটে মারাত্মক হইচই! সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরায় নজর রাখতেই চোখ ছানাবড়া কর্মীদের, দামি ব্যাগের ভেতর নিঃশব্দে ঘি ও রিফাইন তেলের বোতল লুকাচ্ছেন এক সম্ভ্রান্ত পোশাকের মহিলা! দোকান থেকে বেরোনোর আগেই তাঁকে ঘিরে ফেললেন নিরাপত্তারক্ষীরা। মুহূর্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ভাইরাল সেই দৃশ্য।
ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার সেক্টর ১৮-এর ডিএলএফ মলের প্রখ্যাত ‘লে মার্চে’ (Le Marché) বিপণিতে। কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করছিলেন যে, বেশ কিছু দামি মুদি সামগ্রী খোয়া যাচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজে নজরদারি বাড়াতেই আসল অপরাধীকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। দেখা যায়, পরিপাটি পোশাক পরা ওই মহিলা ব্যাগের ভেতরে গোপনে ঘিয়ের বয়াম এবং রিফাইন্ড তেলের বোতল ঢোকাচ্ছেন। তিনি বিল না মিটিয়ে শপিং মল থেকে বের হতে গেলে কর্মীরা ও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁর পথ আটকান।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ও মোবাইল ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তারক্ষীরা যখন তাঁকে মলের ভেতরে নিয়ে যাচ্ছেন, তখন ধরা পড়ে যাওয়ার লজ্জায় বারবার নিজের হাত ও মোবাইল ফোনের আড়ালে মুখ ঢাকার চেষ্টা করছেন অভিযুক্ত মহিলা। মলের এক কর্মীর দাবি, বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ওই মহিলা এই দোকানে যাতায়াত করছিলেন এবং এর আগেও কয়েক হাজার টাকার ঘি, ক্যাভিয়ার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দামি সামগ্রী গোপনে সরিয়েছিলেন।
তবে জল বেশিদূর গড়ানোর আগেই নাটকীয় মোড় নেয় ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত চুরির সমস্ত সামগ্রীর পুরো মূল্য চুকিয়ে দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয় এবং পুলিশি ঝামেলা এড়িয়ে ওই মহিলাকে মল ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক কোনও এফআইআর দায়ের করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যথেষ্ট সচ্ছল পরিবারের মহিলা হওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি সামান্য ঘি-তেল চুরি করতে গেলেন? মনোবিদদের মতে, যদি অভিযোগ সত্যি হয়, তবে ওই মহিলা সম্ভবত ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’ (Kleptomania)-য় আক্রান্ত। এটি এমন এক বিশেষ মানসিক ব্যাধি, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো আর্থিক লাভ বা প্রয়োজনের তাগিদে নয়, বরং চুরি করার এক তীব্র ও অপ্রতিরোধ্য মানসিক তাড়না থেকে না চাইতেও জিনিসপত্র চুরি করে বসেন।






