রাজ্যের খবর

মঙ্গলেই হাওড়ার স্কুলে ‘সারথী’ বিলি করবেন মুখ্যমন্ত্রী, পড়ুয়াদের সঙ্গে বসে খাবেন মিড ডে মিল

১৪০ বছরের পুরোনো স্কুলে সাজ-সাজ রব! হাওড়ায় শুভেন্দু অধিকারীর আগমনে চরম উৎসাহ, পরিদর্শনে জেলাশাসক

Truth of Bengal: রাজ্যে শাসন পরিবর্তনের পর শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একাধিক যুগান্তকারী সংস্কারের সূচনা করেছে নতুন বিজেপি সরকার। এবার তৃণমূল আমলের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের খোলস বদলে নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকারের নিজস্ব ‘সারথি’ সাইকেল প্রদান প্রকল্প। মঙ্গলবার হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী ব্যাঁটরার মধুসূদন পালচৌধুরি হাইস্কুল থেকে সমগ্র রাজ্যের মধ্যে প্রথম ছাত্রদের হাতে নতুন কমলা রঙের ‘সারথি’ সাইকেল তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু এই মেগা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও সাইকেল প্রদানই নয়, এদিন স্কুলের মনোরম পরিবেশ ও পরিকাঠামো দেখে মুগ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্যালয়ের বিশেষ ডাইনিং হলে বসে মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বিজেপি সরকার বাংলায় ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেয় যে, পূর্ববর্তী জমানার সবুজ সাথী প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে জাতীয় মূল্যবোধ ও দিশার প্রতীক হিসেবে ‘সারথি’ রাখা হবে। সাইকেলের রং সবুজ থেকে বদলে ‘কমলা’ করা হয়েছে। মঙ্গলবার হাওড়ার এই ইতিহাসখ্যাত পাঠশালা থেকেই রাজ্যব্যাপী সারথি বিলির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী পদার্পণ করবেন, এই খবর ছড়াতেই সোমবার থেকেই ১৪০ বছরের পুরনো ওই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে চরম উৎসবের আমেজ ও সাজ-সাজ রব পড়ে যায়। শিক্ষক, শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা যায় অদম্য উৎসাহ ও উন্মাদনা। সোমবার সকালেই স্কুলের সামগ্রিক পরিকাঠামো ও নিরাপত্তাব্যবস্থা স্বচক্ষে খতিয়ে দেখতে হাজির হন হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়া এবং পুলিশ কমিশনার অখিলেশ কুমার চতুর্বেদী। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠরত প্রায় ১,২০০ ছাত্রের এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলে ইতোমধ্যে বর্ণাঢ্য মণ্ডপ তৈরির পাশাপাশি বিশাল একটি ব্লকে হাজার হাজার কমলা রঙের সারথি সাইকেল এনে মজুদ করা হয়েছে।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক তন্ময় চক্রবর্তী অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত হয়ে জানান, “হাওড়া জেলায় আমাদের বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নত ও সুশৃঙ্খল হওয়ায় এখান থেকেই রাজ্যব্যাপী ‘সারথি’ প্রকল্প চালুর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নবান্ন থেকে নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের স্কুলে আশ্রমিয় পরিবেশের আদলে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৫০ জন ছাত্রের একসঙ্গে বসে খাওয়ার মতো একটি আধুনিক ও চমৎকার রূপরেখার মিড-ডে মিল হল তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সুসজ্জিত ঘরটি পছন্দ হওয়ায় তিনি ছাত্রদের সঙ্গে বসেই দুপুরের খাবার গ্রহণ করবেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।” উল্লেখ্য, এই সুপরিসর কক্ষে প্রতিদিন পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণির প্রায় ৪০০ ছাত্র অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দুপুরের আহার গ্রহণ করে থাকে।

Related Articles