রাজ্যের খবর

বন্ধ ঘরে নিজেই ভোগ রাঁধেন দেবী! চিল্কিগড়ের কনক দুর্গার রহস্য

কথিত আছে, তৎকালীন সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন।

Truth of Bengal: ঘন শাল-সেগুনের জঙ্গল, পাশে ডুলুং নদী আর তারই মাঝে রহস্যে ঘেরা ঝাড়গ্রামের চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে বহু লোকবিশ্বাস। তার মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত—মহাষ্টমীর রাতে নাকি দেবী নিজেই ভক্তদের জন্য ভোগ রান্না করেন।

কথিত আছে, তৎকালীন সামন্ত রাজা গোপীনাথ সিংহ স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই মন্দির নির্মাণ করেন। রানির সোনার কাঁকন ও বিপুল পরিমাণ সোনা গলিয়ে তৈরি হয়েছিল দেবীর মূর্তি। সেই থেকেই নাম ‘কনক দুর্গা’। এখানে দেবী দশভুজা নন, চার হাতে অশ্বারোহিণী রূপে পূজিত হন।

মহাষ্টমীর রাতে পালিত হয় বিশেষ ‘বিরাম ভোগ’ আচার। চাল, বলির মাংস ও অন্যান্য উপকরণ নতুন মাটির হাঁড়িতে দিয়ে চুলোর উপর বসানো হয়। সামান্য কাঠ জ্বালিয়ে ঘর বাইরে থেকে তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। সারারাত সেখানে কারও প্রবেশের অনুমতি থাকে না।

ভোরে দরজা খুললে ভক্তদের দাবি, হাঁড়ির ভিতরে ভোগ সম্পূর্ণ রান্না হয়ে থাকে এবং প্রসাদ তখনও গরম। কোনও পুরোহিত বা রাঁধুনি ঘরে প্রবেশ করেন না বলেই বিশ্বাস, স্বয়ং কনক দুর্গা অন্নপূর্ণা রূপে ভক্তদের জন্য ভোগ প্রস্তুত করেন।
এই ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নিয়ে নানা মত থাকলেও স্থানীয়দের কাছে এটি বহু প্রজন্মের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের অংশ। তাই দুর্গাপুজোর সময় চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির আজও ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।