‘ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো!’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তোপ মমতার
বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর দল একাধিক অভিযোগ তুলেছিল
Truth of Bengal: এসআইআর ইস্যুতে ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে তাঁর হুঁশিয়ারি, জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। মমতা বলেন, “ভ্যানিশ কুমারকে যেমন ধরেছি, তেমন অন্যায়কারীদের ধরব। ভ্যানিশ কুমার মাস্ট গো। যতদিন না যাবে, আমাদের আন্দোলন চলবে।” এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছিলেন মমতা। বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর দল একাধিক অভিযোগ তুলেছিল। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর চলাকালীন প্রায় ৯২ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার বিষয়টিও বিরোধীদের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠে। সাম্প্রতিক রিপোর্টেও পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯২ লক্ষ নাম বাদ পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই সংখ্যার ব্যাখ্যা ও দায় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।
শনিবার কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে জনসভা করেন মমতা। তৃণমূলের বিভাজন এবং দলীয় নাম-প্রতীক নিয়ে চলতি জটিলতার পর মমতা শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ জনসভাগুলির মধ্যে এটি অন্যতম। সেখান থেকেই বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতার দাবি, “বাংলা দখল করবে বলে এসআইআর করেছিল। ৯৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আমরাই প্রথম বলেছিলাম, ওই অফিসার সীমা খান্নার ভূমিকা সন্দেহজনক।” বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ফর্ম ৬ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। বলেন, “ফর্ম ৬ বস্তায় করে বিজেপির সিল লাগিয়ে জমা দিচ্ছিল বিজেপির লোকজন। সব তথ্য রেখে দিয়েছি।”
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করার কারণও এদিন ব্যাখ্যা করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে একের পর এক নাম বাদ যাওয়ার কারণেই তিনি এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে একটি তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেই খবর সামনে আসার পর জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি আরও জোরালো করেছে একাধিক বিরোধী দল। তবে নির্বাচন কমিশনের পালটা বক্তব্য, মতামতের পার্থক্য থাকলেও এসআইআর-সহ কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি তিন সদস্যের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে। শ্রীরামপুরের মঞ্চ থেকে মমতা স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাঁদের রাজনৈতিক আন্দোলন এখনই থামছে না। একই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “ওরা বাংলা দখল করেছে, আমরা দিল্লি দখল করব।”






