কলকাতা

ছাব্বিশের বিপর্যয়ের পর মাঠে নামছেন মমতা! আইনি জট কাটিয়ে আজ শ্রীরামপুরে হাইভোল্টেজ সভা

একাধিক আইনি জটিলতা কাটিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতিতে এদিন শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

Truth of Bengal: বিধানসভা নির্বাচনের পর ফের জেলা সফরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হুগলির শ্রীরামপুর থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর জেলা কর্মসূচি। একাধিক আইনি জটিলতা কাটিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের অনুমতিতে এদিন শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভা করবেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভা ভোটের পর কলকাতার বাইরে এটিই তাঁর প্রথম সভা। ফলে মমতার বক্তব্যের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হুগলি জেলায় বড় ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল। জেলার ১৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র দু’টিতে জয় পায় দল। সেই নির্বাচনী ফলের পর সংগঠনকে নতুন করে সাজানো এবং কর্মীদের চাঙ্গা করাই এখন মমতা শিবিরের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

শ্রীরামপুরের সভা ঘিরেও কম টানাপড়েন হয়নি। শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্ট ২৬ সেপ্টেম্বর শ্রীরামপুর কোর্ট ময়দানে সভার অনুমতি দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সর্বাধিক এক হাজার মানুষকে নিয়ে সভা করা যাবে। জিটি রোডে কোনও মিছিল করা যাবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষাপটে মমতার এই জেলা সফরকে ঘিরে রাজনৈতিক গুরুত্বও বেড়েছে। পুরভোটের প্রস্তুতি, দলের সাংগঠনিক অবস্থান এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেই নজর থাকবে। অন্যদিকে, সভার আগে তৃণমূলের একাংশ অভিযোগ করেছে, তাদের কর্মীদের আটক করা হচ্ছে এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। শ্রীরামপুরের সভার আগেও দলের তরফে বহু কর্মীকে আটক করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব সেই অভিযোগের পালটা বক্তব্য দিয়েছে।

এর আগে ২১ জুলাই এবং ২৮ অগাস্টের কর্মসূচি থেকে ফের জেলায় জেলায় যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন মমতা। সেই ঘোষণার পর শনিবার শ্রীরামপুর থেকেই কার্যত শুরু হচ্ছে তাঁর জেলা সফর। এদিকে সভাকে ঘিরে শ্রীরামপুরের বিভিন্ন জায়গায় যে পোস্টার দেখা গিয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক প্রতীক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা চোখে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থাকলেও পুরনো ‘ঘাসফুল’ প্রতীক ব্যবহার করা হয়নি। এমনকি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের জন্য মমতা শিবিরকে বরাদ্দ হওয়া ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীকও পোস্টারে নেই। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে পুরনো দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে বিধিনিষেধ তৈরি হওয়ার পর মমতা শিবিরকে আলাদা নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

Related Articles