কলকাতা

উপনির্বাচনেও এবার অল-আউট লড়াই! মমতার শিবিরকে টেক্কা দিতে ভোটে দাঁড়াচ্ছে ঋত শিবির

কালীঘাটপন্থী তৃণমূল যে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দেবে, তা প্রায় নিশ্চিত

Truth of Bengal: রেজিনগর এবং নন্দীগ্রাম—রাজ্যের দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে এবার তৃণমূলের দুই শিবিরের সরাসরি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কালীঘাটপন্থী তৃণমূল যে ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকে দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দেবে, তা প্রায় নিশ্চিত। এবার ঋতব্রত শিবিরও আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল, তারাও দুই আসনে লড়াই করবে। তবে প্রতীক নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিধানসভায় নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দাবি করা আখরুজ্জামান জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তৃণমূলের প্রতীক না মিললে তাঁদের প্রার্থীরা নির্দল হিসেবেই ভোটে নামবেন।

বুধবার আখরুজ্জামান বলেন, রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—দুই কেন্দ্রেই প্রার্থী দেওয়া হবে। দলের জেলা নেতৃত্বের কাছ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় মুখকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁরা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নামেই মনোনয়ন জমা দেবেন এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক দাবি করবেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অরূপ রায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরকে সেই প্রতীক না দেয়, তাহলে প্রার্থীরা কমিশন নির্ধারিত অন্য প্রতীক নিয়ে নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, একই রাজনৈতিক দলের প্রতীকে একাধিক ব্যক্তি মনোনয়ন জমা দিতে পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত দলীয়ভাবে যাঁকে অনুমোদন দেওয়া হয়, তিনিই আনুষ্ঠানিক প্রার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পান। তৃণমূলের বর্তমান দ্বন্দ্বের মূল জায়গাটিও এখানেই—দলের বৈধ নেতৃত্ব বা মালিকানা কার হাতে, তা নিয়েই বিরোধ।

কালীঘাটপন্থী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নথিতে এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অধিকার চেয়ে কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। সেই বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। ফলে কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কালীঘাট শিবিরের প্রার্থীদের জোড়াফুল প্রতীক পেতে বাধা হওয়ার কথা নয় বলে দাবি তাদের। ঋতব্রত শিবিরও এই পরিস্থিতির সম্ভাবনা মাথায় রেখেই বিকল্প প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতীক না মিললেও যাতে উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে না হয়, সে কারণেই নির্দল হিসেবে লড়ার রাস্তা খোলা রাখা হচ্ছে। বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে আখরুজ্জামান বলেন, “আমরা উপনির্বাচনে প্রার্থী দেব। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় লিখে দেব, আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী। প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল। তবে কমিশন যদি প্রতীক জমা দেওয়ার তারিখ পর্যন্ত প্রতীক আমাদের হাতে তুলে না দেয়, তাহলে আমাদের প্রার্থীরা নিজে থেকেই নির্দল হয়ে যাবেন। আমরা নির্দল হিসাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।”

Related Articles