বেড়ালকে বাঘ বানানোর চেষ্টা চলছে!” অভিষেককে নিশানা করে সেটিংয়ের অভিযোগে সরব ঋতব্রত
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ঋতব্রতের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তিনি নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন
Truth of Bengal: কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ‘সেটিং’ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রকাশ্যেই সন্দেহ প্রকাশ করলেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর অভিযোগ, যাঁদের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ হচ্ছে না। এমনকি “বেড়ালকে বাঘ বানানোর চেষ্টা” চলছে বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে ঋতব্রতের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উঠলেও তিনি নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁর কথায়, “যাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, সেই বেড়ালকে বাঘ বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।” একই সঙ্গে মদন মিত্রের একটি মন্তব্য টেনে ঋতব্রত দাবি করেন, ‘সেফ প্যাসেজ’ বা রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে।
তাঁদের দলকে বিজেপির ‘বি টিম’ বলে যে অভিযোগ তোলা হয়, তাও খারিজ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর যুক্তি, যদি সত্যিই কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা থাকত, তবে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে এত মামলা হত না, এতজনকে গ্রেপ্তারও হতে হত না। সাবিনা ইয়াসমিন-সহ দলের একাধিক নেতা ও উপদল নেতার উপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই ঘটনাগুলিই প্রমাণ করে তাঁরা কোনও ‘সেটিং’-এর রাজনীতিতে নেই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রসঙ্গ টেনে ঋতব্রত আরও বলেন, বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক তথ্য সামনে আসছে। কারও বিপুল সম্পত্তির অভিযোগ, কারও বিরুদ্ধে অন্যত্র বিনিয়োগের দাবি—সবকিছুর যোগসূত্র শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে মেলে, সেটাই তদন্তের বিষয়। তাঁর বক্তব্য, সব ‘ডট’ এক জায়গায় মিললে তবেই প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে।
এরই মধ্যে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন আরামবাগের এক তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবি, তৃণমূলের দলীয় অ্যাকাউন্ট থেকে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর তহবিলে টাকা গিয়েছে। নির্বাচনের পর প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও এই দাবিগুলির স্বাধীন যাচাই এখনও হয়নি। ঋতব্রতের বক্তব্য, এই অর্থ লেনদেনের নেপথ্যে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিই নন, বিভিন্ন পেশার মানুষও যুক্ত থাকতে পারেন। তাঁর দাবি, কলকাতা, কেরল, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে একাধিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত যোগসূত্র রয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থেকে ফুটবল কোচ, প্রাক্তন সাংবাদিক এমনকি প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিকের নামও এই অভিযোগের পরিসরে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এই সমস্ত তথ্য তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে তুলে দেবেন বলেও জানিয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, আগামী সপ্তাহের মধ্যে তিনি দিল্লি যাবেন। তিনি বলেন, “ডটগুলি মেলানোর ক্ষমতা কেন্দ্রীয় এজেন্সির রয়েছে। আমাদের কাছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য আসছে। দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে সেই তথ্য জানানো উচিত।”





