১০ বছর পর হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে খোঁজ মিলল মায়ের, ভিডিও কলে ছেলেকে দেখে চোখ ভিজল করুণা মাসির
ভাঙা ভাঙা ৩টি শব্দ আর হ্যাম রেডিওর জাদুকরী তৎপরতা! এক দশক পর ছেলেকে ফিরে পেলেন করুণা মাসি!
Truth of Bengal: “ম্যাডাম, আমি কী বাড়ি যাব না?”, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে জিয়াগঞ্জের ‘তোকিয়া সিনিয়র সিটিজেন হোম’-এর দেওয়ালে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল এক বৃদ্ধার এই আকুল আকুতি। ওড়িশার বাসিন্দা সেই করুণা মাসির এই অসহায় আর্তনাদ বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছিল আশ্রমের সুপার-সহ বাকি কর্মীদের হৃদয়। অবশেষে সেই আকুলতার অবসান ঘটল। হ্যাম রেডিওর (Ham Radio) অবিশ্বাস্য তৎপরতায় দীর্ঘ ১০ বছর পর ওড়িশার গঞ্জাম জেলার হারিয়ে যাওয়া মা খুঁজে পেলেন তাঁর ছেলেকে। ১৩ জুলাই, সোমবার ভিডিও কলের মাধ্যমে মায়ের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ছেলেও।
হোমের সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আবাসিক মায়েদের নিজের পরিবারের মতো আগলে রাখার চেষ্টা করে আসছেন বর্তমান সুপার অর্পিতা লাহিড়ী। করুণা মাসির বাড়ির খোঁজ পেতে তিনি প্রতিনিয়ত কথা বলতেন ওড়িশার বন্ধুদের সঙ্গে, চালাতেন খোঁজখবর। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ জেলা সমাজকল্যাণ আধিকারিক (DSWO) প্রান্তিক ঘোষ যখন তোকিয়া সিনিয়র সিটিজেন হোম পরিদর্শনে আসেন, তখন তাঁর কাছেও সুপারের উপস্থিতিতে নিজের বাড়ি ফেরার ইচ্ছার কথা জানান করুণা মাসি। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই, সঠিক ঠিকানা বলতে পারছিলেন না তিনি। শুধু এটুকুই মনে ছিল: গঞ্জাম জেলা, তরিগুঞ্জ গ্রাম এবং গোপালপুর থানা।
এই সামান্য তথ্যের ওপর ভর করেই শুরু হয় আসল লড়াই। হোমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় হ্যাম রেডিওর সঙ্গে। হ্যাম রেডিওর চন্দন সুর মহাশয় এক্ষেত্রে বাড়িয়ে দেন সহযোগিতার হাত। তিনি যোগাযোগ করিয়ে দেন অম্বরীশ নাগের সঙ্গে। আর তারপরেই ঘটে সেই ম্যাজিক বা ‘মিরাকল’!
এই দুই হ্যাম রেডিও কর্মকর্তার অক্লান্ত পরিশ্রমে ওড়িশার সেই প্রত্যন্ত গ্রামে করুণা মাসির পরিবারের সন্ধান মেলে। , ১৩ জুলাই যখন ভিডিও কলের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর মা ও ছেলের মুখোমুখি যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়, তখন আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় হোমে। ১০ বছর ধরে নিখোঁজ থাকা মাকে ওভাবে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ছেলে।
আশ্রম সূত্রে জানা গিয়েছে, আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা। খুব শীঘ্রই ওড়িশা থেকে ছেলে নিজে আসছেন জিয়াগঞ্জের এই আশ্রমে, তাঁর প্রিয় মাকে বুকে জড়িয়ে নিজের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। তোকিয়া সিনিয়র সিটিজেন হোমের মানবিক উদ্যোগ এবং হ্যাম রেডিওর এই সাফল্য আরও একবার প্রমাণ করল, চেষ্টা এবং প্রযুক্তি একসঙ্গে মিললে যেকোনো অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।






