দিল্লিতে নাশকতার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, গ্রেফতার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তিন সদস্য
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
Truth of Bengal: রাজধানী দিল্লিতে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করল দিল্লি পুলিশ। কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই চক্রের সঙ্গে যুক্ত তিন অভিযুক্ত শার্প শুটারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের স্পেশাল সেল। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ‘টার্গেট কিলিং’-এর পরিকল্পনা করছিল। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত তিনজনেরই দীর্ঘ অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। এর আগেও একাধিক গুলিচালনা ও সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় তাদের নাম উঠে এসেছিল। গোয়েন্দাদের নজরেও তারা দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বিদেশে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা নির্দেশ পাচ্ছিল। কাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে, কখন হামলা চালানো হবে এবং কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে— সেই সংক্রান্ত সমস্ত নির্দেশ বিদেশ থেকেই পৌঁছচ্ছিল বলে পুলিশের দাবি।
এই গ্রেফতারির ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন আন্তর্জাতিক মহলেও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংকে ঘিরে তৎপরতা বেড়েছে। বর্তমানে গুজরাতের সবরমতী জেলে বন্দি লরেন্স বিষ্ণোই। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা লরেন্স বিষ্ণোই এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের বিরুদ্ধে কানাডায় ভারতের ঘোষিত খালিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন।
এই অভিযোগ সামনে আসে এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অভিযান ‘অপারেশন হার্ড বল’-এর অংশ হিসেবে। বহু বছর ধরে চলা এই তদন্তে উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ জুড়ে সক্রিয় তিনটি আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে মোট ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্র খুন, তোলাবাজি, মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালানসহ একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।
এর আগেও চলতি মাসের শুরুতে হরিয়ানার ঝাঝর জেলায় দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল এবং হরিয়ানা স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের যৌথ অভিযানে লরেন্স বিষ্ণোই–হ্যারি বক্সার গ্যাংয়ের দুই শুটার পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়। হরিয়ানার হাঁসিতে এক জিম মালিককে খুনের ঘটনায় তারা অভিযুক্ত ছিল।
দিল্লিতে তিন শার্প শুটারের গ্রেফতারের পর তদন্তকারীদের ধারণা, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এখনও সক্রিয় এবং তার শিকড় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের বাকি সদস্যদের পরিচয়, বিদেশি যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।






