রাজ্যের খবর

দান-তহবিলের টাকায় কড়া নজরদারি, তারাপীঠ মন্দিরে চালু হচ্ছে নতুন নিয়ম

মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে কড়া নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন কমিটি

Truth of Bengal: তারাপীঠ মন্দিরের দান ও তহবিলের টাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মাঝেই আর্থিক স্বচ্ছতা ফেরাতে বড় সিদ্ধান্ত নিল নবগঠিত মন্দির কমিটি। অভিযোগ ছিল, বহু বছর ধরে মন্দিরে জমা হওয়া দানের টাকা নিয়ম মেনে ব্যাঙ্কে জমা করা হচ্ছিল না। সম্প্রতি একসঙ্গে মন্দির কমিটির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই কোটি টাকা জমা পড়তেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে মন্দিরের আর্থিক লেনদেনে কড়া নিয়ম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন কমিটি। কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, এবার থেকে প্রতিদিন মন্দিরে যে দান ও তহবিলের অর্থ জমা হবে, তা সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরবর্তী কার্যদিবসে সেই টাকা জমা দেওয়া হবে।

শুধু তাই নয়, মন্দিরের বিভিন্ন তহবিলের জন্য পৃথক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হবে। ফলে কোন খাতে কত টাকা এল এবং কোথায় কত খরচ হল, তার আলাদা হিসাব রাখা সম্ভব হবে। মন্দির কমিটির দাবি, এতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে কোনও বিভ্রান্তি বা বিতর্কের সুযোগ থাকবে না। এছাড়াও মন্দিরের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডিজিটাল হিসাবরক্ষণ পরিচালনার জন্য নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মন্দির কমিটির অফিস নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছোটখাটো দৈনন্দিন খরচ নগদে মেটানো হলেও বড় অঙ্কের লেনদেন শুধুমাত্র চেকের মাধ্যমে করা হবে। এর ফলে প্রতিটি লেনদেনের লিখিত ও নথিভুক্ত রেকর্ড থাকবে। মন্দির কমিটির মতে, আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে তারাপীঠ মন্দিরের তহবিলের অর্থ সংরক্ষণের জন্য মোট পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে মন্দিরে জমা হওয়া দানের টাকা নিয়মিতভাবে ব্যাঙ্কে জমা করা হয়নি। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন মন্দির কমিটি গঠিত হয়। কমিটির সভাপতি হয়েছেন হাঁসন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পাদক হয়েছেন সেবাইত পুলক চট্টোপাধ্যায়। মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এবার থেকে প্রতিদিনের আয় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যাঙ্কে জমা করা হবে। বিভিন্ন তহবিলের টাকা আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্টে রাখা হবে। ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকলে পরের কর্মদিবসে টাকা জমা হবে। প্রায় ১৫ বছর আগে এই নিয়ম চালু ছিল, কিন্তু পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে এবং ডিজিটাল লেনদেনও শুরু করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে নতুন কর্মী নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি অসমাপ্ত মন্দির অফিসের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”