চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে অনুব্রত-জীবনকৃষ্ণের নাম
সিউড়ি থানাকে তদন্তমূলক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত
Truth of Bengal: চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগে এবার আদালতে নাম জড়াল তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ও জীবনকৃষ্ণ সাহা-সহ মোট ছ’জনের। এই অভিযোগে সিউড়ি সিজেএম আদালতে পিটিশন দায়ের হয়েছে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সিউড়ি থানাকে তদন্তমূলক রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সদাইপুর থানার সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা কল্যাণ ঘোষ গত ১১ জুন সিউড়ির সিজেএম আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর দাবি, চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি।
অভিযোগপত্রে প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ এবং উত্তম ঘোষের নাম উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি আরও তিনজনের নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, সেই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল, বড়ঞাঁর প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের এক প্রাক্তন সভাপতি রাজা ঘোষ। সব মিলিয়ে মোট ছ’জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আদালত সিউড়ি থানাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। প্রথমে ১৯ জুন রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন পুলিশ রিপোর্ট দাখিল করেনি। পরে ২ জুলাই ফের রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেদিনও নানা কারণে রিপোর্ট আদালতে জমা পড়েনি। এরপর বিচারক আবারও সিউড়ি থানাকে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন। আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে সেই রিপোর্ট আদালতে পেশ করতে হবে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালত এখনও কোনও চূড়ান্ত মতামত বা সিদ্ধান্ত জানায়নি।
শুক্রবার মামলার সরকারি আইনজীবী মোক্তাব হোসেন জানান, অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী প্রসেনজিৎ ঘোষ, তন্দ্রা ঘোষ এবং উত্তম ঘোষ বিভিন্ন তৃণমূল নেতার নাম করে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন। অভিযোগে ওই তিনজন ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। তবে সেই তালিকায় অনুব্রত মণ্ডল বা জীবনকৃষ্ণ সাহার নাম রয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। আপাতত আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সিউড়ি থানার রিপোর্টের দিকেই নজর। ১৭ জুলাই তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়ার পরই মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আইনি প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়, তা স্পষ্ট হবে।






