দেশ

অযোধ্যার পর এবার বদ্রীনাথেও অনুদান চুরির অভিযোগ, তদন্তের নির্দেশ মন্দির কমিটির

অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা কয়েকজন কর্মীর কাছেও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

Truth of Bengal: অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার একই ধরনের অভিযোগ উঠল উত্তরাখণ্ডের বদ্রীনাথ ধামে। ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও অর্ঘ্য বণ্টনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই বিষয়টির তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন বিকেটিসি-র সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী। পাশাপাশি, অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা কয়েকজন কর্মীর কাছেও ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত ভৈরব সেনা নামে একটি সংগঠনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সংগঠনের সভাপতি সন্দীপ খাত্রী দাবি করেন, বদ্রীনাথ মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও অর্ঘ্য বণ্টনে অনিয়ম হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, মন্দির কমিটির এক কর্মী, যিনি সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত, এবং আরও কয়েকজন কর্মচারী এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিকেটিসি-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহান সিং রাঙ্গড়-কে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

তবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিকেটিসি সভাপতি হেমন্ত দ্বিবেদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যাঁকে তাঁর ‘ব্যক্তিগত সচিব’ বলা হচ্ছে, তিনি আদৌ তাঁর ব্যক্তিগত সচিব নন। তিনি মন্দির কমিটির একজন স্থায়ী সরকারি কর্মচারী এবং এর আগে কমিটির একাধিক প্রাক্তন সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মন্দির কমিটির প্রধান কার্যনির্বাহী আধিকারিক সোহান সিং রাঙ্গড় জানান, অভিযোগ সামনে আসার পর মন্দির চত্বরে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়েছে। যদিও উপলব্ধ ফুটেজে পর্যাপ্ত স্পষ্টতা নেই। তবুও অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটি সমস্ত তথ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দেবে। তদন্তে কোনও অনিয়ম বা আর্থিক তছরুপের প্রমাণ মিললে শ্রী বদ্রীনাথ-কেদারনাথ মন্দির কমিটি আইন, ১৯৩৯ এবং কর্মচারী আচরণবিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ভক্তদের আবেগের সঙ্গে বিষয়টি জড়িত থাকায়, প্রমাণ ছাড়া বিভ্রান্তিকর বা ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার না করার আবেদনও জানিয়েছে মন্দির কমিটি।

উল্লেখ্য, এরই মধ্যে অযোধ্যার রাম মন্দিরের কোটি টাকার অনুদান তছরুপের অভিযোগে তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। বিশেষ তদন্তকারী দল-এর মেয়াদ আরও ১৫ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই মামলার প্রত্যেকটি দিক খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই আবহেই বদ্রীনাথ মন্দিরে অনুদান সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসায় দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ তীর্থক্ষেত্রকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

 

Related Articles