২২ বছর পর ফের দেশে উপপ্রধানমন্ত্রী? নজরে দুই হেভিওয়েট
তবে এই সমস্ত জল্পনাকে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে দেশের সম্ভাব্য 'উপপ্রধানমন্ত্রী' পদ।
Truth of Bengal: তৃতীয় মোদি সরকারের দু’বছর পূর্ণ হতেই জাতীয় রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিজেপির পুরনো ঐতিহ্য অনুযায়ী, নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’বছর পর সাধারণত মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসে। এর পাশাপাশি, নীতীন নবীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি হওয়ার পর পাঁচ মাস কেটে গেলেও এখনও তাঁর নতুন কমিটি বা ‘টিম’ তৈরি হয়নি। বিজেপি সূত্রের খবর, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এবং দলীয় সংগঠনের রদবদল একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হবে। অর্থাৎ, মন্ত্রিসভার কিছু চেনা মুখকে সংগঠনের দায়িত্বে ফিরিয়ে আনা হতে পারে, আবার কিছু পুরনো মন্ত্রীকে সরিয়ে অন্তত ৭-৮ জন নতুন সাংসদকে মন্ত্রিসভায় সুযোগ দেওয়া হতে পারে। জোটের সমীকরণ মাথায় রেখে মোদি-শাহরা কীভাবে এই রদবদল সামলান, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিস্তর জল্পনা চলছে।
তবে এই সমস্ত জল্পনাকে ছাপিয়ে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে দেশের সম্ভাব্য ‘উপপ্রধানমন্ত্রী’ পদ। একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবার একজন উপপ্রধানমন্ত্রী নিয়োগের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। যদিও এই পদটি সাংবিধানিক নয় এবং মূলত আলঙ্কারিক, তবুও অতীতে জোটের ভারসাম্য বা দলের অন্দরে ক্ষমতার সাম্য বজায় রাখতে এই পদ ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৭ জন উপপ্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, যাদের মধ্যে শেষ নামটি ছিল লালকৃষ্ণ আডবানী। বাজপেয়ী জমানার পর মনমোহন সিংয়ের ১০ বছর এবং নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনকালে দেশে কোনো উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন না।
বর্তমানে এই পদের জন্য মূলত দু’টি নাম নিয়ে রাজনৈতিক অলিন্দে জোর চর্চা চলছে। প্রথম নামটি খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। দলে এবং সরকারে তাঁর প্রভাব অপরিসীম, তদুপরি বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির অভাবনীয় সাফল্যের পুরস্কার হিসেবে তাঁকে এই সম্মানজনক পদ দেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দ্বিতীয় নামটি হলো বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমারের। বিহারের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ করা হলেও বড় কোনো পদে পুনর্বাসন দেওয়া হয়নি। জেডিইউ নেতারাও প্রকাশ্যেই নীতীশ কুমারকে উপপ্রধানমন্ত্রী করার দাবি তুলছেন। যদিও সরকার বা বিজেপির শীর্ষ মহল থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি, তবে রদবদলের আগে জাতীয় রাজনীতির পারদ যে চড়ছে, তা বলাই বাহুল্য।






