রাজ্যের খবর

“নেতাদের এত দুর্নীতি আর সহ্য করতে পারছি না!”, তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন গাজোলের পরাজিত প্রার্থী প্রসেনজিৎ

রবিবার কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি

Truth of Bengal: তৃণমূল কংগ্রেসে ফের ভাঙন। এবার দল ছাড়লেন গাজোল বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী প্রসেনজিৎ দাস। দলের একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি ফিরলেন পুরনো দল কংগ্রেসে। রবিবার মালদহ টাউন হলে দক্ষিণ মালদহের সাংসদ তথা জেলা কংগ্রেস সভাপতি ইশা খান চৌধুরী এবং কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগ দেন প্রসেনজিৎ। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গাজোল কেন্দ্র থেকে প্রসেনজিৎ দাসকে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তবে বিজেপি প্রার্থীর কাছে তাঁকে পরাজিত হতে হয়। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি।

দলবদলের পর প্রসেনজিৎ সরাসরি তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনকালে নেতাদের দুর্নীতি তিনি আর সহ্য করতে পারছিলেন না। সেই কারণেই পুরনো দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে মালদহের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। প্রসেনজিৎ দাসের রাজনৈতিক জীবনের শুরু কংগ্রেসের হাত ধরেই। কংগ্রেসের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পর তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। পরবর্তীতে জেলা রাজনীতিতে তৃণমূলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। মালদহ জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ এবং জেলা যুব তৃণমূলের সভাপতি হিসেবেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন প্রসেনজিৎ। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংলিশবাজার পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। ইংলিশবাজার পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরও ছিলেন প্রসেনজিৎ। বর্তমানে ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তাঁর মা ছবি দাস।

দীর্ঘদিন তৃণমূলে থাকার পর প্রসেনজিতের কংগ্রেসে ফেরা মালদহের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনজির নূরের দাবি, প্রসেনজিৎ দাসের প্রত্যাবর্তনে মালদহে কংগ্রেস সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। আগামী রাজনৈতিক লড়াইয়ে দল নতুন গতি পাবে বলেও আশাবাদী তিনি। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্থিরতা বাড়ছে। একদিকে দুর্নীতি ও তোলাবাজির অভিযোগে একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হচ্ছেন, অন্যদিকে দলের বহু পুরনো মুখও দূরত্ব বাড়াচ্ছেন। সাংসদ-বিধায়কদের একাংশ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বলেও রাজনৈতিক মহলে দাবি উঠছে। এই আবহেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরলেন প্রসেনজিৎ দাস। তাঁর দলবদল মালদহের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।