‘এই তো সবে শুরু, এবার দুনিয়া কাঁপাবে ভারত!’, কলকাতার বুক থেকে শত্রুদের চরম হুঁশিয়ারি মোদির
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে একসঙ্গে জলে নামল ভারতীয় নৌসেনার তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ
Truth of Bengal: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পুণ্যলগ্নে কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মহেন্দ্রক্ষণের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে একসঙ্গে জলে নামল ভারতীয় নৌসেনার তিন অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ, ‘আইএনএস দুনাগিরি’, ‘আইএনএস অগ্রয়’ এবং ‘আইএনএস সংশোধক’। কলকাতার গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স (GRSE)-এর তৈরি এই তিনটি রণতরী আজ, রবিবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর সরাসরি ভারত মহাসাগরের নীল জলে নজরদারির জন্য রওনা দিল। এই মেগা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা।

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধপরিস্থিতি ও টালমাটাল অর্থনৈতিক আবহের মধ্যেই এই তিন যুদ্ধজাহাজের অন্তর্ভুক্তি ভারতের রণকৌশলগত শক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অত্যন্ত প্রত্যয়ী সুরে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “এই তো সবে শুরু!” বিশ্বকে বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “বাইরের খোলা বাজারের ওপর নির্ভর করে নয়, ভারত এবার নিজের শক্তি, নিজস্ব প্রযুক্তি এবং দেশীয় শ্রমের জোরেই বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শক্তিধর রাষ্ট্র হয়ে উঠবে।” তিন দিকে সমুদ্রবেষ্টিত ভারতের জলসীমা সুরক্ষায় নৌসেনার এই আধুনিকীকরণ এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

এদিনের অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহাসিক ভূমিকাকে কুর্নিশ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলা বরাবরই ভারতের পুনর্জাগরণকে গতি দিয়েছে। আজ সেই বাংলা থেকেই তৈরি হচ্ছে আত্মনির্ভর ও সুরক্ষিত ভারতের নতুন রূপরেখা।” প্রতিরক্ষায় ভারতের স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠার ওপর জোর দিয়ে মোদি আরও যোগ করেন, “ভারত এবার কেবল ক্রেতা নয়, নির্মাতা হতে চায়। আর যেদিন আমরা বড় নির্মাতা হব, সেদিন আমরাই বৈশ্বিক রাজনীতির বড় নির্ণায়ক হব। আমরা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।”

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই তিন যুদ্ধজাহাজ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, বিগত কয়েক বছরে ৪০টিরও বেশি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন ভারতীয় নৌসেনায় যুক্ত হয়েছে। কলকাতার বুক থেকে জলে নামা এই তিন ‘ত্রাস’ এখন গভীর সমুদ্রে শত্রুর যে কোনও আগ্রাসন রুখে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।






