কলকাতা

তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার কাটমানি! অরূপের বি*স্ফোরক চিঠির পর থানায় ঋত-পন্থী ১০ বিধায়ক

এবার কি ফ্রিজ হচ্ছে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট? কাটমানির কোটি কোটি টাকা ঢোকার অভিযোগে তোলপাড়

Truth of Bengal: ক্ষমতা হারানোর পর থেকে তৃণমূলের লোকসভা ও বিধানসভা দল ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এবার যা ঘটল, তা এককথায় নজিরবিহীন। ভাঙনের সেই মরণকামড় এবার আছড়ে পড়ল খোদ জোড়াফুল শিবিরের দলীয় তহবিলের ওপর। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার ‘কাটমানি’ ঢুকতে পারে, এই মারাত্মক আশঙ্কা প্রকাশ করে অবিলম্বে দলের সমস্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবি তুললেন বিধানসভায় ‘আসল তৃণমূলের’ বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। শুধু দাবি করাই নয়, এই ইস্যুতে বৃহস্পতিবারই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ১০ জন ‘ঋতপন্থী’ হেভিওয়েট বিধায়ক। এর ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, দল ভাঙার পর এবার কি সত্যিই দেউলিয়া হতে চলেছে একদা রাজ্যের শাসক দল?

এইচডিএফসি ব্যাঙ্কে অরূপ বিশ্বাসের বিস্ফোরক চিঠি!

এই চরম নাটকের সূত্রপাত অবশ্য ঘটেছিল প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাসের (Aroop Biswas) একটি চিঠির হাত ধরে। অরূপবাবু হঠাৎই এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় একটি সরকারি চিঠি পাঠিয়ে দলের অ্যাকাউন্ট অবিলম্বে লক বা ফ্রিজ করার আর্জি জানান।

চিত্র- সংগৃহীত

চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস স্পষ্ট লিখেছেন, “দলের মধ্যে বর্তমানে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ গন্ডগোল চলছে। বহু সাংসদ ও বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করে দল ছেড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের আসল কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই তহবিলের অপব্যবহার রুখতে এবং দলের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে সমস্ত আর্থিক লেনদেন অবিলম্বে বন্ধ রাখা হোক।”

কোষাধ্যক্ষ কে? অরূপ বিশ্বাসের পাল্টা চাল

অরূপ বিশ্বাসের এই চিঠির পরই কালীঘাটের অন্দরে ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে। কারণ, বিধানসভা ভোটের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে নতুন সাংগঠনিক কমিটি গড়েছিলেন, সেখানে অরূপকে সরিয়ে কোষাধ্যক্ষ পদে বসানো হয়েছিল শুভাশিস চক্রবর্তীকে।

তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন, “অরূপ বিশ্বাস এখন আর দলের কোষাধ্যক্ষ নন। তাই তাঁর দেওয়া ওই চিঠির আইনি কোনও সারবত্তাই নেই।” কিন্তু কুণালের এই দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চিঠির বয়ানে অরূপ নিজেকেই ‘কোষাধ্যক্ষ’ বলে দাবি করেছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি অরূপ বিশ্বাসও মমতার নতুন কমিটিকে অস্বীকার করে বিদ্রোহীদের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেললেন?

তহবিলের রাশ কার হাতে? নজর আদালতের দিকে

সাংসদ ও বিধায়কদের একাংশ দল ছাড়লেও দলের মূল সংগঠন এবং কালীঘাটের তহবিলের রাশ এতদিন নিজের হাতেই রাখতে মরিয়া ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এযাবৎকাল বিদ্রোহী শিবিরের কেউ সরকারিভাবে এই বিশাল দলীয় তহবিলের ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করেননি। কিন্তু এবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী ১০ বিধায়ক পুলিশে নালিশ ঠোকায় এবং অরূপ বিশ্বাস ব্যাঙ্কে চিঠি পাঠানোয় আইনি জট মারাত্মক আকার ধারণ করল।

Related Articles