মিড ডে মিল চাইতে গিয়ে আক্রান্ত খুদে পড়ুয়া! গেটম্যানের ধাক্কায় ফাটল কপাল
খাবারের বদলে জুটল নির্মম ধাক্কা, রক্তাক্ত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র! নদিয়ার সরকারি স্কুলে তুলকালাম, চম্পট অভিযুক্তের!
Truth of Bengal: সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলের (Mid-Day Meal) খাবারের গুণমান বা বণ্টন নিয়ে বঙ্গে ক্ষোভ নতুন কিছু নয়। কিন্তু খাবার চাইতে গিয়ে এক নিরীহ ছাত্রকে রক্তাক্ত হতে হবে, এমন নারকীয় ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। শুক্রবার দুপুরে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও অমানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল নদিয়া জেলার শান্তিপুর ব্লকের কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুল। মিড ডে মিলের খাবার চাইতে যাওয়ার অপরাধে এক গেটম্যানের হাতে নির্মমভাবে আক্রান্ত হতে হল পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে। গুরুতর আহত ওই ছাত্রের নাম লব মণ্ডল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা স্কুল ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটতে হয় শান্তিপুর থানার পুলিশকে।
খাবার নেওয়ার লাইনে আচমকা ধাক্কা, কপাল ফাটল শিশুর
স্থানীয় ও স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো এদিনও কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে ক্লাস করতে এসেছিল পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র লব মণ্ডল। দুপুর হতেই নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়াদের সঙ্গে মিড ডে মিলের খাবার নিতে লাইনে দাঁড়ায় সে। অভিযোগ, খাবার নেওয়ার সময় স্কুলের গেটম্যান কোনও কারণ ছাড়াই লবকে লক্ষ্য করে সজোরে ধাক্কা মারে। গেটম্যানের সেই ধাক্কার তীব্রতায় লব ছিটকে গিয়ে দেওয়াল বা লোহার পিলারে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই কেটে যায় তার কপাল এবং শরীর থেকে রক্ত ঝরতে শুরু করে। লবের শরীরের অন্যান্য অংশেও গুরুতর চোট লাগে।
রণক্ষেত্র স্কুল চত্বর, এলাকা ছাড়া অভিযুক্ত গেটম্যান
রক্তাক্ত অবস্থায় লব কান্নাকাটি শুরু করতেই স্কুলের অন্যান্য পড়ুয়ারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে স্কুলের সামনে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দা এবং লবের পরিবারের সদস্যরা। এক খুদে পড়ুয়ার ওপর এমন বর্বরতা দেখে উত্তেজিত জনতা স্কুলের ভেতরে ঢুকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এবং গণপিটুনির আশঙ্কায় স্কুল ছেড়ে চম্পট দেয় অভিযুক্ত গেটম্যান।
আক্রান্ত ছাত্রের মা কবিতা মণ্ডল কান্নায় ভেঙে পড়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “আমার ছেলে তো কোনও অপরাধ করেনি। ও শুধু মিড ডে মিলের খাবারটাই চেয়েছিল। কিন্তু একটা বাচ্চাকে এভাবে পশুর মতো কেন মারা হল? ওর কপাল ফেটে চৌচির হয়ে গেল! আমি ওই গেটম্যানের কঠোরতম শাস্তি এবং সঠিক বিচার চাই।”
তদন্তের আশ্বাস প্রধান শিক্ষকের, এলাকায় পুলিশ
খবর পেয়েই কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে পৌঁছায় শান্তিপুর থানার পুলিশ বাহিনী। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
অন্যদিকে, এই অনভিপ্রেত ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোপাল সরকার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও নিন্দনীয়। ঠিক কী কারণে ওই গেটম্যান ছাত্রটির ওপর চড়াও হল বা কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছি। শিক্ষা দফতরেও বিষয়টি জানানো হচ্ছে।”






