শিলিগুড়ির মেয়র পদ ছাড়লেন গৌতম দেব! উত্তরবঙ্গে সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে সাফ তৃণমূল
মেয়র পারিষদদের তীব্র আপত্তি, তবু সিদ্ধান্তে অনড়! কেন তড়িঘড়ি পুর কমিশনারকে পদত্যাগপত্র পাঠালেন গৌতম?
Truth of Bengal: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোটা উত্তরবঙ্গে কার্যত বিপর্যয় ঘটেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার, উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে ঘাসফুল শিবির এখন পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। সিতাই কেন্দ্র থেকে ঘাসফুল টিকিটে সঙ্গীতা বসুনিয়া জিতলেও, তিনি এখন খোলাখুলি বিদ্রোহী শিবিরে পা বাড়িয়েছেন। লোকসভার সাংসদরাও আগেই দল ছেড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গে ক্ষমতা বলতে তৃণমূলের হাতে বেঁচে ছিল কেবল একটিই সম্বল, শিলিগুড়ি পুরনিগম (SMC)। কিন্তু শুক্রবার সকালে সেই শেষ আশাটুকুও জলাঞ্জলি গেল। সবাইকে চমকে দিয়ে শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা গৌতম দেব (Gautam Deb)। শুক্রবার সকালেই তিনি পুর কমিশনারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
বৈঠকেই তুমুল মতভেদ, দু’ভাগে ভাগ পুরবোর্ড!
জানা গিয়েছে, পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে বৃহস্পতিবার পুরনিগমের মেয়র পারিষদদের (MMIC) নিয়ে একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠক করেছিলেন গৌতম দেব। সেখানে তিনি যখন ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তখন মেয়র পারিষদদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়। বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ এখনও এক বছরেরও বেশি বাকি রয়েছে। ফলে অনেক কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদই এখন ক্ষমতা ছাড়তে চাইছিলেন না। বৈঠকটি কার্যত দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তবে শেষ পর্যন্ত সমস্ত আপত্তি উড়িয়ে নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন গৌতম এবং শুক্রবার পদত্যাগপত্র জমা দেন।

মমতার দেওয়া পদের জেরেই কি এই সিদ্ধান্ত?
রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, গত বুধবারই গৌতম দেবকে তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির (সমতল) চেয়ারম্যান পদে নতুন করে নিয়োগ করেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেত্রীর নির্দেশ ছিল, ভোট বিপর্যয় কাটিয়ে গৌতম যেন এখন পুরভোট বা প্রশাসনের চেয়ে সংগঠনের কাজে বেশি সময় দেন। দলের সেই নির্দেশ মেনেই নাকি এই ইস্তফা। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, নতুন করে তৃণমূলের পক্ষে অন্য কাউকে মেয়র করে বোর্ড টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। ফলে শিলিগুড়ি পুরনিগমও এখন হাতছাড়া হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।

২০১১-র দাপুটে মন্ত্রী থেকে ছাব্বিশের শূন্যতা
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের পর উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন এই গৌতম দেব। ২০১৬ সালে পান পর্যটন দফতরের দায়িত্ব। তবে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসন থেকে তাঁর পরাজয় ঘটে। এরপর ২০২২ সালে শিলিগুড়ি পুরনিগম নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শিলিগুড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েও ফের হারের মুখ দেখতে হয় তাঁকে। আর শুক্রবারে মেয়রের কুর্সি ছাড়তেই উত্তরবঙ্গের মানচিত্র থেকে তৃণমূলের নাম চিরতরে মুছে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





