কলকাতা

২১ কাঠা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, অরূপ-স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় এলআইসি

দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকার সুরুচি সংঘ ক্লাবটি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নিজস্ব গড় বলেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে পরিচিত।

Truth of Bengal: কলকাতার অন্যতম হাই-প্রোফাইল এবং জনপ্রিয় দুর্গাপুজো সুরুচি সংঘকে ঘিরে এবার এক বিস্ফোরক জবরদখলের অভিযোগ সামনে এলো। জীবন বিমা নিগম তথা এলআইসি (LIC)-এর মূল্যবান ২১ কাঠা জমি বেআইনিভাবে দখল করে এই পুজো ও ক্লাবঘর চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে। নিজেদের সেই হাতছাড়া হওয়া জমি পুনরুদ্ধার করতে শনিবার সরাসরি আলিপুর থানার দ্বারস্থ হলেন বিমা সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এই আইনি পদক্ষেপের পর, তিলোত্তমার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া হয়ে গিয়েছে।

দক্ষিণ কলকাতার নিউ আলিপুর এলাকার সুরুচি সংঘ ক্লাবটি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের নিজস্ব গড় বলেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে পরিচিত। সম্প্রতি হেনস্তা, তোলাবাজি এবং আর্থিক অনিয়ম-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্বরূপের গ্রেপ্তারের পরেই ক্ষুব্ধ আমজনতা সুরুচি সংঘ ক্লাবে চড়াও হয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই এলআইসি-র আধিকারিকরা বিস্ফোরক দাবি করে জানান, বহু বছর ধরে তাঁদের ২১ কাঠা জমি গায়ের জোরে জবরদখল করে রেখেছিলেন বিশ্বাস ভাইয়েরা। শুধু পুজো করাই নয়, সম্পূর্ণ জমিটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে সেখানে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তিনতলা একটি ক্লাবঘর ও বহুতল নির্মাণ করা হয়েছে।

থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর এলআইসি-র আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানান, এই জমিটি ফেরত পাওয়ার জন্য এর আগেও তাঁরা একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অতীতে আদালতের দরজাও খটখটানো হয়েছিল, কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপটে বিমা সংস্থার সমস্ত চেষ্টা বিফলে যায় এবং জমি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা ওই তিনতলা বিতর্কিত বহুতলটির ভেতরে বিলাসবহুল একাধিক বেডরুম বা শোওয়ার ঘর রয়েছে বলেও আধিকারিকরা অভিযোগ তুলেছেন। একটি ক্লাবের ভেতরে এই ধরণের আবাসন পরিকাঠামো কেন তৈরি হলো, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এদিকে সুরুচি সংঘের ওপর আমজনতার ক্ষোভ আছড়ে পড়ার পর ক্লাবের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন জিনিসপত্র ঘিরে দুর্নীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুরপথে এই ক্লাবে সরকারি ত্রাণ ও সামগ্রী আমদানি করা হতো। ক্লাবঘরের একটি গোপন কক্ষ থেকে রাশি রাশি সরকারি পানীয় জল ‘প্রাণধারা’-র বোতল এবং সরকারি ত্রাণের জন্য বরাদ্দ শাড়ির পাহাড় উদ্ধার হয়েছে। ক্লাবের ভেতরে বিলাসবহুল বেডরুম এবং সরকারি সামগ্রীর এই অবৈধ মজুত দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। একদিকে দুর্নীতি ও ভাঙচুর, অন্যদিকে এলআইসি-র জমি পুনরুদ্ধারের এই আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে বিশ্বাস ব্রাদার্সের সুরুচি সংঘ এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে।

Related Articles