রাজ্যের খবর

মঙ্গলাহাটে পুলিশের উচ্ছেদ অভিযান! লাঠি উঁচিয়ে হকারদের তাড়া, রণক্ষেত্র হাওড়া ময়দান

সপ্তাহের প্রথম দিনেই মঙ্গলাহাটে তুলকালাম, কাঁদলেন নাছোড়বান্দা ব্যবসায়ীরা

Truth of Bengal: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই জবরদখল ও ফুটপাথ পুনরুদ্ধার নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আর সেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কোপ এবার পড়ল এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম কাপড়ের হাট, হাওড়ার ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলাহাটের ওপর। সোমবার সকাল থেকেই হাওড়া ময়দান চত্বরে মঙ্গলাহাটের জবরদখল হঠাতে লাঠি হাতে ময়দানে নামল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে বসা হকারদের হঠাতে রীতিমতো লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে দেখা যায় পুলিশকে। যা নিয়ে সপ্তাহের প্রথম দিনেই তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গোটা হাওড়া ময়দান চত্বরে।

১ দিনের হাট বেড়ে ৩ দিন! ক্ষোভে ফুঁসছিল সাধারণ মানুষ

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মানুযায়ী সপ্তাহে মাত্র একদিন অর্থাৎ শুধু মঙ্গলবারই এই মঙ্গলাহাট বসার কথা। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব ও একশ্রেণীর নেতার মদতে এই হাটের বহর রবি থেকে মঙ্গলবার, টানা তিন দিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল। রবিবার গভীর রাত থেকেই রাস্তার ওপর বসে যেতেন ব্যবসায়ীরা, যা চলত মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত। ফলস্বরূপ, হাওড়া জেলা হাসপাতাল, জেলাশাসকের অফিস চত্বর, হাওড়া গার্লস কলেজের সামনে চার্চ রোড এবং বঙ্কিম সেতুর নিচের ফুটপাথ ও রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে থাকত। তীব্র যানজটের কারণে বছরের পর বছর ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে রোগী ও সাধারণ মানুষকে।

মাইকিংয়ের পরেও নাছোড়বান্দা হকার, ভোরের আলো ফুটতেই অ্যাকশন

প্রশাসনের তরফে গত সপ্তাহেই মাইকিং করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, রাস্তা বা ফুটপাথ জবরদখল করে কোনোভাবেই হাট বসানো যাবে না। সেই মতো রবিবারও পুলিশ কাউকেই বসতে দেয়নি। কিন্তু সোমবার সকাল হতেই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে বিপ্লবী হরেন ঘোষ সরণির বিভিন্ন জায়গায় পুনরায় জড়ো হতে শুরু করেন নাছোড়বান্দা ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জমায়েত করে বিক্ষোভ শুরু করতেই অ্যাকশনে নামে হাওড়া সিটি পুলিশ। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেয়। হকারদের দাবি, অন্তত সপ্তাহে একদিন অর্থাৎ মঙ্গলবারও যদি তাঁদের বসতে না দেওয়া হয়, তবে তাঁরা সপরিবারে না খেতে পেয়ে মরবেন।

ফুটপাথ দখল কোনওভাবেই বরদাস্ত নয়: পুলিশ

যদিও হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সেখানেই বসতে হবে। কোনও অবস্থাতেই ব্যস্ততম রাস্তা এবং সাধারণ মানুষের হাঁটার ফুটপাথ হকারদের দখলে ছেড়ে দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। এই মেগা উচ্ছেদ অভিযানের পর সোমবার দুপুর পর্যন্ত হাওড়া ময়দান চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, থমথমে হলেও দীর্ঘদিন পর রাস্তা সম্পূর্ণ ফাঁকা দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাওড়াবাসী।