‘বিজেপি নেতা’ সেজেও মিলল না রেহাই! উত্তরপ্রদেশ থেকে বর্ধমানের প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাস আটক
তোলাবাজি থেকে ভোট-পরবর্তী হিংসা, তৃণমূলের ভরাডুবির পর খোকন দাসের বিরুদ্ধে কোন কোন ধারায় মামলা?
পিন্টু প্যাটেল, বর্ধমান: লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকেই দিকে দিকে শুরু হয়েছে ক্ষমতার পালাবদল। আর এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের আবহেই এবার বড়সড় ধাক্কা খেল পূর্ব বর্ধমান জেলার শাসকদল। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় দাপট দেখানো বর্ধমান দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসকে অবশেষে ভিনরাজ্য থেকে আটক করল জেলা পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তরপ্রদেশের দীনদয়াল উপাধ্যায় (পূর্বতন মোঘলসরাই) স্টেশন থেকে তাঁকে আটক করেন তদন্তকারীরা। ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁকে ইতিমধ্যেই বর্ধমানে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং সোমবারই তাঁকে বর্ধমান জেলা আদালতে পেশ করা হবে।
এলাকা জুড়ে ছিল ‘বাহুবলী’ রাজ, ছাব্বিশের ভোটে হারতেই ছন্নছাড়া
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর থেকেই এলাকায় কার্যত একচ্ছত্র ‘বাহুবলী’ রাজ কায়েম করেছিলেন খোকন দাস। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, সাধারণ মানুষকে হুমকি এবং ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় সরাসরি মদত দেওয়ার মতো ভুরি ভুরি গুরুতর অভিযোগ ছিল। তৎকালীন রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে পুলিশ তাঁর কেশাগ্রও ছুঁতে পারেনি। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির সঙ্গে সঙ্গেই খোকন দাসও পরাজিত হন। আর ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই রাতারাতি ভোল পালটে নেওয়ার এক মরিয়া চেষ্টা চালান এই প্রাক্তন বিধায়ক।
“আমিই এখন বিজেপি নেতা”, ভাইরাল অডিও ঘিরে শোরগোল
এলাকা ছাড়ার আগে স্থানীয় এক বাসিন্দার সঙ্গে খোকন দাসের কথোপকথনের একটি অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় হু হু করে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা যায়, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে পাড়ার মন্দির সংস্কারের বকেয়া টাকা দাবি করতেই চরম রেগে যান প্রাক্তন বিধায়ক। পালটা হুমকি দিয়ে খোকন দাসকে বলতে শোনা যায়, “তৃণমূল হেরে যাওয়ার পর এসব নিয়ে বেশি হইচই করছিস! মনে রাখিস, আমিই এখন বিজেপি নেতা। বেশি বাড়াবাড়ি করলে দেখে নেব।” যদিও এই অডিও প্রকাশ্যে আসার পর খোকন দাস দাবি করেছিলেন যে এটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি।
ট্রেনের টিকিট ট্র্যাক করে পুলিশের মেগা অপারেশন
এই অডিও বিতর্ক সামনে আসার পর খোকন দাসের বিরুদ্ধে বর্ধমানের বিভিন্ন থানায় একের পর এক জামিন অযোগ্য ধারায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। বেগতিক বুঝে গ্রেফতারির ভয়ে তড়িঘড়ি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হল না। খোকন দাসের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন এবং ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের তথ্য ট্র্যাক করে বর্ধমান জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশে হানা দেয়। শনিবার রাতে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ থেকে তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ। সোমবার আদালতে তোলার পর পুলিশ তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বর্ধমানের একাধিক দুর্নীতি ও হিংসার মামলার রহস্যভেদ করতে চাইছে।





