কলকাতা

হরিশ মুখার্জী রোডে অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি দল, গেট না খোলায় বাড়ল জল্পনা

বাড়ির কর্মীরা গোয়েন্দাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই এবং গত কয়েক দিনের মধ্যে তিনি সেখানে আসেননি

Truth of Bengal: তৃণমূলের পরিষদীয় দলের চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর ‘অসঙ্গতি’ বা সই-কাণ্ডের তদন্তের আঁচ এবার পৌঁছাল খোদ জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বে। শনিবার দুপুরে হরিশ মুখার্জি রোডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে হাজির হন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ তথা সিআইডি (CID)-র চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের দল। তবে সিআইডি আধিকারিকেরা পৌঁছালেও অভিষেকের দেখা পাননি তাঁরা। বাড়ির কর্মীরা গোয়েন্দাদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে বাড়িতে নেই এবং গত কয়েক দিনের মধ্যে তিনি সেখানে আসেননি।কী কারণে হঠাত সিআইডি-র এই হানা, তা নিয়ে লালবাজার বা ভবানী ভবনের তরফে সরকারিভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে ওয়াকিবহাল মহলের প্রবল অনুমান, বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় পদের দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত চিঠিতে সই-বিতর্কের তদন্তের সূত্রেই অভিষেকের সঙ্গে কথা বলতে বা তাঁকে নোটিস দিতেই গিয়েছিলেন সিআইডি কর্তারা।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপদলনেতা এবং মুখ্য সচেতক নির্বাচন করা নিয়ে পরিষদীয় নিয়মের এক জটিল বেড়াজালে পড়েছে প্রাক্তন শাসকদল। গত ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর, ৬ মে কালীঘাটে বিজয়ী বিধায়কদের বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিধায়করা সর্বসম্মতভাবে জানান, পরিষদীয় পদের দায়িত্ব কাদের দেওয়া হবে তা দলনেত্রী ঠিক করবেন। এর পর শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্য সচেতক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই মর্মে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই করা একটি চিঠি বিধানসভায় পাঠানো হয়। কিন্তু বিধানসভা কর্তৃপক্ষ সেই চিঠি খারিজ করে দেয়। পরিষদীয় নিয়ম অনুযায়ী, দলের কোনও বাইরের সাংগঠনিক পদের নেতার চিঠিতে নয়, বরং পরিষদীয় পদের নির্বাচন বিধায়কদের নিজেদের বৈঠকের মাধ্যমেই হওয়া বাধ্যতামূলক।

এই চিঠি খারিজের পর পরবর্তী একটি নথিতে বিধায়কদের ব্যাক-ডেটেড বা পেছনের তারিখের সই করানোর অভিযোগ ওঠে, যার মধ্যে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন যে নথিতে থাকা সইটি ওঁর নয়। এই জালিয়াতির অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় মামলা দায়ের হওয়ার পর কলকাতা পুলিশকে সাহায্য করতে তদন্তে নামে সিআইডি। এই সই-কাণ্ডের তদন্তের সূত্রেই গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিআইডি-র দল একে একে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, ডোমজুড়ের বিধায়ক তাপস মাইতি এবং ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলামের বাড়িতে হানা দিয়েছিল। এবার খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডি-র পৌঁছানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোট-পরবর্তী আবহে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Related Articles