রাজ্যের খবর

ভেড়ি থেকে মাছ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! বোরালে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ সরকার।

Truth of Bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি ও আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বোরাল এলাকায় একটি ভেড়ি থেকে মাছ চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর বরুণ সরকার। শনিবার ভোরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে দলবলসহ ওই ভেড়ি থেকে মাছ তুলতে দেখেন। অভিযোগ ওঠে, কোনো বৈধ অধিকার ছাড়াই বেআইনিভাবে সেখান থেকে মাছ সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষ চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং ওই তৃণমূল কাউন্সিলরকে ঘিরে ধরে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাসিন্দারাই তাঁকে আটকে রেখে থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কাউন্সিলর বরুণ সরকারকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতার হওয়ার পর অবশ্য নিজের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন ধৃত এই তৃণমূল নেতা। বরুণ সরকারের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে সমবায় থেকে লিজ বা ইজারা নিয়ে ওই ভেড়িতে মাছ চাষ করছিলেন। তবে সম্প্রতি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর সাধের মাছ চাষের ব্যাপক ক্ষতি করা হতে পারে, এমন একটা গভীর আশঙ্কা তাঁর মনে দানা বেঁধেছিল। সেই ভয় থেকেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে তিনি তড়িঘড়ি ভেড়ি থেকে নিজের চাষ করা মাছ তুলে নিচ্ছিলেন। যদিও তাঁর এই দাবি খতিয়ে দেখতে এবং ঘটনার আসল সত্য উদ্ঘাটন করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেও দুর্নীতি দমনে পুলিশের বড়সড় সাফল্য মিলেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আবাস যোজনা’র ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে গরিব উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ‘কাটমানি’ বা বেআইনি কমিশন নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর গোপাল দাস। স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই কাউন্সিলরকে নির্দিষ্ট পরিমাণে কাটমানির টাকা না দিলে কোনোভাবেই আবাস যোজনার ঘর পাওয়া যেত না। এর পাশাপাশি এলাকায় জমি দখলসহ আরও একাধিক বড়সড় দুর্নীতির সঙ্গে গোপাল দাস সরাসরি জড়িত ছিলেন বলেও দাবি স্থানীয়দের। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকেগ্রেফতার করে। পর পর দুই পুরসভার জনপ্রতিনিধিদের এমন গ্রেফতারি রাজ্য রাজনীতিতে শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।

Related Articles