কলকাতা

কলেজ তহবিলের কোটি কোটি টাকা গায়েব! সুরেন্দ্রনাথ কলেজে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি সজলের

অর্থ জালিয়াতির পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতারের অনুরোধও জানিয়েছেন বরানগর কেন্দ্রের এই বিধায়ক

Truth of Bengal: কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানালেন বরানগরের বিধায়ক সজল ঘোষ। এই দুর্নীতির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের নথিপত্র উল্লেখ করে শুক্রবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে এই বিপুল অর্থ জালিয়াতির পেছনে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতারের অনুরোধও জানিয়েছেন বরানগর কেন্দ্রের এই বিধায়ক।

অভিযোগের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে সজল ঘোষ জানান যে, কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বড়জোর ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হয়ে থাকে। নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সংগৃহীত এই তহবিল থেকে কোনোভাবেই বছরে আড়াই কোটি টাকা ছাত্র সংসদের অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে না। এই অবাস্তব ও বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সজল ঘোষ নাম না করে এই দুর্নীতির প্রধান চক্রী হিসেবে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সর্বময় কর্তা এবং মধ্য কলকাতায় কানকাটা দেবু নামে পরিচিত দেবাশিস মুখোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন।

বরানগরের বিধায়কের আরও অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে কলেজের বার্ষিক উৎসব বা সোশালের নাম দেওয়া হয়েছিল লক্ষ্য। এই অনুষ্ঠানটি আসলে তৃণমূলের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য বেআইনিভাবে টাকা তোলার লক্ষ্য বা উপায়ে পরিণত হয়েছিল। নিজের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতার কথা টেনে তিনি বলেন যে, তাঁরাও অতীতে দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ চালিয়েছেন, কিন্তু তখন কখনই তহবিলে এত কোটি কোটি টাকা আসেনি। বর্তমানেও ওই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে এক কোটি টাকার বেশি মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কীভাবে এই টাকা এল এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ কেনই বা ছাত্র সংসদকে এত টাকা পাইয়ে দিল, তা নিয়ে গভীর রহস্য রয়েছে বলে তাঁর মত।

এই বিষয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, ছাত্র সংসদের তহবিলে থাকা এই টাকার সিংহভাগই আসলে কলেজে ভর্তির নামে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে আদায় করা লাখ লাখ টাকা। প্রতি বছর এভাবে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের এই সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের একাংশও ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিধায়ক সজল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য ফাঁস করতেই কলেজের বহু বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী মন্তব্যের ঘরে এসে কলেজের নানা বেনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে শুরু করেছেন।