রাজ্যের খবর

কোভিড কেড়েছিল বাবাকে, মাধ্যমিকে প্রথম অভিরূপের জীবনের লড়াই চোখে জল আনবে

পর্ষদ সভাপতির ঘোষণায় কান্নার রোল অভিরূপের বাড়িতে! লড়াকু মায়ের চোখের জল আজ সার্থক

সত্যেন মহন্ত, উত্তর দিনাজপুর: অভাবের সংসার, তার ওপর মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে যাওয়া, এক চিলতে ঘরে লড়াইটা ছিল পাহাড়প্রমাণ। কিন্তু যাবতীয় বাধা তুচ্ছ করে সাফল্যের এভারেস্টে চড়ল উত্তর দিনাজপুরের অভিরূপ ভদ্র। শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২০২৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করতেই দেখা যায়, ৬৮৭ নম্বর পেয়ে গোটা রাজ্যের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে রায়গঞ্জের সারদা বিদ্যামন্দিরের এই কৃতী ছাত্র।

বাবার স্মৃতিই ছিল পড়াশোনার অক্সিজেন

অভিরূপের বাবা পেশায় ছিলেন ঠিকাদার। ২০২১ সালে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ অভিরূপের সাজানো সংসার তছনছ করে দেয়। কোভিড কেড়ে নেয় বাবার প্রাণ। তারপর থেকেই পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে মা ইন্দ্রাণী ভদ্র চৌধুরীর কাঁধে। ইন্দ্রাণী দেবী পেশায় একজন নার্স। বাবার অকাল মৃত্যু যেন কিশোর অভিরূপকে রাতারাতি প্রাপ্তবয়স্ক করে দিয়েছিল। সে বুঝেছিল, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মায়ের কষ্ট লাঘব করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। সেই জেদ থেকেই দিন-রাত এক করে পড়াশোনায় ডুবে থাকত সে।

ঘরের কোণেই তৈরি হয়েছিল সাফল্যের ব্লু-প্রিন্ট

অভিরূপের সাফল্যের কারিগর তাঁর একনিষ্ঠতা। পাড়ার বাসিন্দারা জানান, অভিরূপকে ঘরের বাইরে বিশেষ দেখাই যেত না। নিভৃত দু’কামরার বাড়িতে বসেই চলত প্রস্তুতির যজ্ঞ। শুক্রবার পর্ষদ সভাপতি রামানুজ বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথম স্থানে অভিরূপের নাম ঘোষণা করেন, তখন রায়গঞ্জের বাড়িতে কান্নার রোল পড়ে যায়। তবে এ কান্না শোকের নয়, এ কান্না সাফল্যের আনন্দাশ্রু।

আগামীর লক্ষ্য ও শুভেচ্ছা

বড় হয়ে কী হতে চায় এই কৃতী ছাত্র? অভিরূপ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানায়, “আমার স্বপ্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। সেই লক্ষ্যেই এগোতে চাই।” ছেলের এই সাফল্যে মা ইন্দ্রাণী দেবী বলেন, “ভেবেছিলাম প্রথম দশে থাকবে, কিন্তু একদম প্রথম হবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। ওর পরিশ্রম আজ সার্থক।” অভিরূপের অভাবনীয় সাফল্যে রায়গঞ্জের সদ্য নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কও তাঁকে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্কুলের শিক্ষকরাও জানাচ্ছেন, অভিরূপ শুধু মেধাবীই নয়, তাঁর ধৈর্য ও পরিশ্রম অন্য ছাত্রদের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।