ক্যামাক স্ট্রিটে হঠাৎই উধাও পুলিশ! অভিষেকের অফিসের সামনে থেকে সরল প্রহরা
মঙ্গলবার দুপুর থেকে শেক্সপিয়র সরণি থানার অন্তর্গত ওই অফিসের সামনে থাকা দীর্ঘকালীন পুলিশি প্রহরা হঠাৎই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাবে এবার নিরাপত্তার কড়াকড়ি শিথিল হলো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরেও। মঙ্গলবার দুপুর থেকে শেক্সপিয়র সরণি থানার অন্তর্গত ওই অফিসের সামনে থাকা দীর্ঘকালীন পুলিশি প্রহরা হঠাৎই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল জমানায় ক্যামাক স্ট্রিটের এই এলাকাটি কার্যত ‘দুর্ভেদ্য দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত ছিল। নিরাপত্তার খাতিরে সেখানে সাধারণের প্রবেশ থেকে শুরু করে মিছিল করার ওপর ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা। এমনকি, গ্রুপ-ডি চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের সময় কলকাতা পুলিশ সেখানে মিছিলের অনুমতি দেয়নি, যার জন্য চাকরিপ্রার্থীদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে সেই চেনা ছবি পুরোপুরি বদলে গেল। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই পুলিশি ব্যারিকেড ও প্রহরা সরিয়ে নেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকেলেই বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনের সামনের রাস্তাতেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের মুখে থাকা ‘সিজারস ব্যারিকেড’ সরিয়ে দিয়ে রাস্তাটি সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এতদিন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিবেশীদেরও যাতায়াতের সময় যে কড়া তল্লাশি এবং পরিচয়পত্র দেখানোর ঝক্কি পোহাতে হতো, তা থেকে আজ মুক্তি পেয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনিক প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্যে নতুন সরকার গঠন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই বিদায়ী শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিরাপত্তা বলয় ধীরে ধীরে শিথিল করা হচ্ছে। সোমবার রাতেও যেখানে পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে ছিল, মঙ্গলবার সকাল গড়াতেই কলকাতা পুলিশের এই ‘অন্য বন্দোবস্ত’ রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত ক্যামাক স্ট্রিট এবং কালীঘাট— দুই গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানাতেই সাধারণ মানুষের যাতায়াত এখন অনেকটাই স্বাভাবিক।






