Truth of Bengal: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের ঢেউ আছড়ে পড়তেই এবার বিস্ফোরক ফুটবল সংগঠক ও ব্যবসায়ী শতদ্রু দত্ত। টালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী তথা বিদায়ী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের শোচনীয় পরাজয়ের পরই সমাজমাধ্যমে একের পর এক তোপ দাগলেন তিনি। জেলবন্দি হওয়ার যন্ত্রণা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত অপমান— সবকিছুর বদলা নিতে এবার ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন শতদ্রু।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসিকে কলকাতায় আনার নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন এই শতদ্রু দত্ত। কিন্তু সেই সময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসিকে ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, যার জেরে ৩৮ দিন শ্রীঘরে কাটাতে হয়েছিল কোন্নগরের এই ব্যবসায়ীকে। সেই সময় অভিযোগের আঙুল উঠেছিল তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকেই। মঙ্গলবার টালিগঞ্জের নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট হতেই দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী পাপিয়া অধিকারীর কাছে ৬০১৩ ভোটে হেরে গিয়েছেন অরূপ। আর এই পতনের পরই ফেসবুকে সরব হন শতদ্রু। ফেসবুক স্টোরিতে অরূপ বিশ্বাসের হারের ছবি দিয়ে শতদ্রু লিখেছেন, “তোমার খেলা শেষ। এবার আমার খেলা শুরু।” তিনি আরও দাবি করেছেন যে, শীঘ্রই একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে পর্দার আড়ালের সব সত্য তিনি ফাঁস করবেন। তাঁর অভিযোগ, মেসির অনুষ্ঠানের সময় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোর করে গ্যালারির অনুমতিপত্র বা পাস কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বাধা দিতে গেলে তাঁদের ঘরে বন্দি করে রাখা এবং ব্ল্যাকমেল করার মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি।

শতদ্রু দত্তর দাবি, তাঁর দীর্ঘ তিন বছরের পরিকল্পনা এবং লগ্নিকৃত অর্থ রাজনৈতিক স্বার্থে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে। তাঁকে ‘বলির পাঁঠা’ বানিয়ে জেলে পাঠানোয় যে সম্মানহানি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ হিসেবেই ৫০ কোটি টাকার মামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “মেসিকে দেখার যে স্বপ্ন ভক্তদের ছিল, তা পূরণ হতে দেওয়া হয়নি। এবার সময় এসেছে সবকিছুর উত্তর দেওয়ার।” অন্যদিকে, অরূপ বিশ্বাসের এই হার নিয়ে সমাজমাধ্যমে মিমের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ লিখছেন, “রাজ্যের পালাবদলে গোল করলেন খোদ মেসি।” কেউ আবার ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “সময় সবকিছুর উত্তর দেয়, থ্যাঙ্ক ইউ মেসি দা!” রাজ্যে ২০৭টি আসন জিতে বিজেপির নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দখলের দিনে টালিগঞ্জের এই লড়াই এবং শতদ্রু দত্তর এই পালটা লড়াইয়ের বার্তা বর্তমান পরিস্থিতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।





