অধীরকে মালা পরানোর ‘শাস্তি’! বহরমপুরে পানীয় জলের কল তুলে নেওয়ার অভিযোগ পৌরসভার বিরুদ্ধে
অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দিন পাঁচেক আগে পৌরসভার কর্মীরা এসে এলাকার সচল টিউবওয়েলটি হঠাৎ খুলে নিয়ে চলে যায়।
Truth of Bengal: ভোটের উত্তাপ মিটতেই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নগ্ন রূপ সামনে এল বহরমপুর পৌরসভার অন্তর্গত ধোপঘাটি এলাকায়। বিরোধী প্রার্থীকে মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোর অপরাধে এলাকার একমাত্র সচল টিউবওয়েলটি উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠল শাসকদলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। পানীয় জলের সংকটে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী এলাকায় গিয়ে বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দেন এবং শাসকদলের এই ‘বর্বর’ আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধানসভা নির্বাচনের সময় বহরমপুর পৌরসভার পিছনের এই ধোপঘাটি এলাকায় এসেছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সেই সময় এলাকার মহিলারা তাঁকে মালা পরিয়ে সংবর্ধনা জানান। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই ঘটনার পর থেকেই শাসকদলের স্থানীয় কর্মীরা তাঁদের লাগাতার হুমকি দিচ্ছিল। অভিযোগ আরও গুরুতর হয়ে ওঠে যখন দিন পাঁচেক আগে পৌরসভার কর্মীরা এসে এলাকার সচল টিউবওয়েলটি হঠাৎ খুলে নিয়ে চলে যায়।
বাসিন্দা ফরিদা বিবি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “পৌরসভা থেকে লোক এসে কলটা নিয়ে যাচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করায় বলল, বলে অবজেকশন আছে তাই তুলে নেওয়া হচ্ছে। আসলে দাদাকে (অধীর চৌধুরী) মালা পরিয়েছিলাম বলেই আমাদের ওপর এই অত্যাচার। এখন আমরা জল পাব কোথায়?” অন্য এক বাসিন্দা রোশনারা বিবির দাবি, এলাকায় প্রায় ৬০টি পরিবারের বাস। মিউনিসিপ্যালিটির ট্যাপের জল পানের অযোগ্য হওয়ায় এই টিউবওয়েলটিই ছিল তাঁদের একমাত্র ভরসা। রান্নাবান্না থেকে স্নান—সবই বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূলের ছেলেরা আমাদের রাস্তাঘাটে বেরোলে হুমকি দিচ্ছে। আমাদের অপরাধ আমরা দাদাকে ভোট দিয়েছি আর মালা পরিয়েছি।”

এদিন এলাকায় পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে মেজাজ হারান অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, “তৃণমূলকে ভোট দেয়নি বলে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়া কোন ধরনের গণতন্ত্র? এটা কি তালিবানি শাসন চলছে? মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এই বর্বরতা বহরমপুরের মানুষ মেনে নেবে না। আমরা প্রশাসনের কাছে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছি।” তৃণমূলের প্রার্থী তথা বহরমপুরের পুরপ্রধান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অধীর চৌধুরী প্রকৃত ঘটনা না জেনে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আসলে ওই টিউবওয়েলটিতে বিষাক্ত জল বের হচ্ছে বলে অভিযোগ পেয়ে খুলে রাখা হয়েছে। জল টেস্ট করে দেখা হবে। এর পরে সেখানে নতুন করে টিউবওয়েল বসানো হবে। কিন্তু অধীর চৌধুরী এমন আচরণ করছেন, মনে হচ্ছে ভোটের ফল প্রকাশের আগেই উনি বিধায়ক হয়ে গিয়েছেন। তাহলে উনি টিউবওয়েল বসানোর দায়িত্ব নিন।’ তবে কাঠফাটা রোদে পানীয় জলের কল হারিয়ে দিশেহারা ধোপঘাটির বাসিন্দারা এখন দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছেন। বাসিন্দাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, দ্রুত কল বসানো না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন।






