কলকাতা

ICSE ও ISC-তে রাজ্যের জয়জয়কার! কেমন ফল করল কলকাতার পড়ুয়ারা?

জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে এক ঝাঁক কৃতী শিক্ষার্থী

Truth of Bengal: আইএসসি এবং আইসিএসই পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর মেধার জয়জয়কার দেখল কলকাতা ও শহরতলি। জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য ছিনিয়ে নিয়েছে এক ঝাঁক কৃতী শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পানিহাটির সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলের অনুষ্কা ঘোষ ৫০০-র মধ্যে ৫০০ নম্বর পেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও কম্পিউটার সায়েন্সের মতো প্রতিটি বিষয়েই পূর্ণমান পেয়েছে সে। অনুষ্কার এই সাফল্যে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর মা অবিষী ঘোষের। মা চেয়েছিলেন মেয়ে দেশের মধ্যে সেরা হোক, আর সেই লক্ষ্যেই অনুষ্কাকে প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। পড়ার চাপে যাতে মেয়ে পিষ্ট না হয়, তাই মায়ের পরামর্শ ছিল স্রেফ প্রতিটি বিষয়ে পূর্ণমান পাওয়ার লক্ষ্যে এগোতে। অনুষ্কার কথায়, ভালো ফল করলেও তাঁর আসল প্রাণ মিশে আছে কবিতা ও গল্প লেখায়। ভবিষ্যতে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ার ইচ্ছে থাকলেও সৃজনশীল লেখালেখিই তাঁর প্রধান শখ।

মেধার লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই আনন্দপুরের দি হেরিটেজ স্কুলের ছাত্রী ইলিনা রাজকুমার উদানিও। নিউগড়িয়ার বাসিন্দা ইলিনা আইএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি, ঐচ্ছিক ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান এবং গণজ্ঞাপন বিভাগে ১০০-এ ১০০ পেয়েছে। ইংরেজি সহ সেরা তিন বিষয় ধরলে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৪০০-এ ৪০০। তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী দম্পতি রাজকুমার উদানি ও দেবলীনা রায়ের একমাত্র কন্যা ইলিনা ছোটবেলা থেকেই ইংরেজি সাহিত্যের অনুরাগী। ইতিমধ্যেই তাঁর একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাওয়া ইলিনা ভবিষ্যতে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী। দিল্লির একটি নামী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমদ্যেই স্নাতক স্তরে ভর্তি হয়েছে সে। ইলিনার সাফল্যে অত্যন্ত গর্বিত স্কুল কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, দশম শ্রেণির আইসিএসই পরীক্ষায় সাফল্যের ঝাণ্ডা উড়িয়েছে রামমোহন মিশন হাইস্কুলের ছাত্র অর্কদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫০০-র মধ্যে ৪৯৯ নম্বর পেয়ে সে নজির গড়েছে। বিজ্ঞান, গণিত, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন এবং ইতিহাস-ভূগোল মিলিয়ে চারটিতেই ১০০ পেয়েছে সে, শুধু ইংরেজিতে তাঁর এক নম্বর কম রয়েছে। পদার্থবিদ্যা ও গণিত প্রিয় বিষয় হলেও অর্কদীপের মূল লক্ষ্য কম্পিউটার সায়েন্স এবং বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে পড়াশোনা করা। পড়াশোনার পাশাপাশি বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসে অর্কদীপ। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত মায়ের কাছে পড়াশোনা করলেও পরে গৃহশিক্ষকদের সহায়তা নিয়েছে সে।

একই স্কুলের আরেক কৃতি ছাত্র অভিনব দাসও উজ্জ্বল ফল করেছে। বাঘাযতীনের বাসিন্দা অভিনব কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও গণিতে পূর্ণমান ১০০ পেয়েছে। ইংরেজিতে সে ৯৯ এবং বিজ্ঞানে ৯৮ নম্বর অর্জন করেছে। অর্কদীপের মতোই অভিনবও ভবিষ্যতে কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই এগোতে চায়। স্কুলের অধ্যক্ষ সুজয় বিশ্বাস এই কৃতিদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, তাঁদের এই ফলাফল আগামী দিনে আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করবে। সব মিলিয়ে বোর্ড পরীক্ষার এই ফল পড়ুয়াদের কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঠিক দিকনির্দেশনারই জয়গান গাইছে।