রাজ্যের খবর

‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে গর্বিত বাঙালি লিয়েন্ডার! পরিকাঠামো নিয়ে রাজ্যকে তোপ টেনিস তারকার

শনিবার সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কলকাতাই তাঁর মাতৃভূমি এবং এখান থেকেই তাঁর সাফল্যের যাত্রা শুরু।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নিজের ‘বাঙালি’ পরিচয় নিয়ে সরব হয়েছেন বিশ্ববিখ্যাত টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ। শনিবার সল্টলেকে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে বসে তিনি স্পষ্ট জানান যে, কলকাতাই তাঁর মাতৃভূমি এবং এখান থেকেই তাঁর সাফল্যের যাত্রা শুরু। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করার প্রেক্ষিতে লিয়েন্ডার নিজের শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘‘আমার জন্ম কলকাতায়। এটাই আমার মাতৃভূমি। কলকাতার সাউথ ক্লাবে টেনিসে হাতেখড়ি হয়েছে। কলকাতা ময়দানেই খেলাধুলো করেছি ছোট থেকে। লা মার্টিনিয়ার স্কুলে পড়াশোনা করেছি। জীবনে যা কিছু খেলা শিখেছি, সেটা কলকাতা থেকেই।’’

গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু এবং বঙ্গ বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতা সুকান্ত মজুমদারের হাত ধরে বিজেপিতে নাম লেখান এই অলিম্পিক পদকজয়ী তারকা। ২০২১ সালে গোয়ার মাটিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিলেও, সেবার কোনও নির্বাচনে লড়ার টিকিট পাননি তিনি। এবার গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে লিয়েন্ডার নতুন ইনিংস শুরুর অঙ্গীকার করে বলেন, ‘‘আজ আমার জীবনে বড় দিন, নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। ৪০ বছর ধরে দেশের জন্য টেনিস খেলেছি। এবার নতুন খেলার সুযোগ পেয়েছি। দেশের সেবা করতে পারব।’’ বিজেপির দাবি, লিয়েন্ডারের আগমনে বঙ্গে নির্বাচনের লড়াইয়ে দল বাড়তি সুবিধা পাবে।

তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন লিয়েন্ডার পেজ। তাঁর মতে, বাংলা থেকে নতুন প্রতিভা উঠে না আসার মূল কারণ উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার অভাব। রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, ‘‘এখানে একটাও ইন্ডোর টেনিস কোর্ট নেই। এত গরম, বর্ষায় এখানকার বাচ্চারা খেলতে পারে না। বাংলায় টেনিসের কোনও আলাদা স্টেডিয়াম নেই। কোনও পরিকাঠামোর উন্নতি করা হয়নি।’’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে, অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়ন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।

লিয়েন্ডার পেজের এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মাইকেল মধুসূদন দত্তের বংশধর হওয়ার সূত্র ধরে তিনি নিজেকে খাঁটি বাঙালি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলেও, তৃণমূল শিবির তাঁর এই হঠাৎ ‘বাঙালি প্রেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ২০৩৬ সালের অলিম্পিক ভারতে আয়োজন করার লক্ষ্য নিয়ে লিয়েন্ডার এখন দেশজুড়ে টেনিসের পরিকাঠামো বদলে দিতে চান। বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়ে তাঁর এই নতুন ভূমিকা সাধারণ ভোটারদের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

Related Articles