কলকাতা

কমিশনের নির্দেশে অফিসার বদলি নিয়ে এবার আইনি সংঘাত! হাইকোর্টের দ্বারস্থ কল্যাণ

আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

Truth of Bengal: পশ্চিমবঙ্গে লোকসভা ভোটের দামামা বাজতেই নির্বাচন কমিশনের একের পর এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বদলির সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার আইনি লড়াই শুরু হল। কমিশনের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা দিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। রাজ্যের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করেই আইপিএস এবং আইএএস অফিসারদের কেন সরিয়ে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্ন তুলেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক রদবদলে সক্রিয় হয়ে ওঠে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো শীর্ষকর্তাদের রাতারাতি বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়াও মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, জলপাইগুড়ি এবং রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি-দেরও পদ থেকে সরানো হয়েছে। কমিশনের এই একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে নিজের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়ও বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন যে, বাংলাকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর মতে, অফিসারদের বদলি করে প্রশাসনকে দুর্বল করার চক্রান্ত চলছে। তবে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন যে, যাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা সকলেই রাজ্যের দক্ষ অফিসার এবং ম্যানপাওয়ার কেড়ে নিয়ে জনসমর্থন কমানো সম্ভব নয়। পেট্রোল-ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির প্রসঙ্গ টেনে তিনি একে ‘বাংলার অস্মিতা রক্ষার লড়াই’ বলে অভিহিত করেছেন।

আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর আবেদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকেও এই মামলায় পক্ষভুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন। রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কেন্দ্রের এই হস্তক্ষেপ আইনত কতটা বৈধ, তা নিয়েই এখন উচ্চ আদালতে বিতর্ক শুরু হতে চলেছে। নির্বাচনের মুখে এই আইনি পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles