কলকাতা

আইসিসি-র গ্লোবাল এডুকেশন ফোরাম

হায়ার এডুকেশনে বড় ট্রান্সফরমেশন আনতে হলে ২০২০ সালের ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসিকেই ভিত্তি করতে হবে।

রাহুল চট্টোপাধ্যায়: বিকশিত ভারত ২০৪৭ এর লক্ষ্যে কলকাতায় আইসিসি-র সপ্তম গ্লোবাল এডুকেশন ফোরাম, উচ্চশিক্ষা সংস্কারে জোর দেওয়া হয়েছে। ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স (আইসিসি) কলকাতায় আয়োজন করল সপ্তম গ্লোবাল এডুকেশন ফোরাম (জিইএফ)। বিকশিত ভারত @২০৪৭ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ফিউচার-রেডি হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলার রোডম্যাপ নিয়ে পলিসিমেকার, অ্যাকাডেমিশিয়ান, ইন্ডাস্ট্রি লিডার ও ইন্টারন্যাশনাল রিপ্রেজেন্টেটিভরা আলোচনায় অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, হায়ার এডুকেশনে বড় ট্রান্সফরমেশন আনতে হলে ২০২০ সালের ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসিকেই ভিত্তি করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘গত তিন দশকের মধ্যে এটাই আমাদের এডুকেশন সিস্টেমের সবচেয়ে বড় রিইম্যাজিনেশন।’
তিনি জানান, প্রস্তাবিত ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল, ২০২৫’ এডুকেশন গভর্ন্যান্সে নতুন আর্কিটেকচার তৈরি করবে। রেগুলেটরি অ্যাপ্রোচে ‘ইনস্পেকশন থেকে ট্রাস্ট’-এর দিকে বদল আনা হবে বলেও জানান তিনি। কারিকুলাম রিফর্মের উপর জোর দিয়ে মজুমদার বলেন, আউটডেটেড কারিকুলাম ও রিজিড পেডাগজি দিয়ে আগামী দিনের স্টুডেন্টদের প্রস্তুত করা যাবে না।

‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’ শুধু স্লোগান নয়, ন্যাশনাল কমিটমেন্ট – এ কথা উল্লেখ করে তিনি ইনস্টিটিউশন, ইন্ডাস্ট্রি ও পলিসিমেকারদের কো-ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁর মতে,ইন্ডিয়ার ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাস্তব, কিন্তু টাইম-বাউন্ড। তাই আর্জেন্সি, অ্যাম্বিশন ও আনওয়েভারিং রিজলভ নিয়ে এগোতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর ইকোনমিক অ্যাডভাইসরি কাউন্সিলের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল হায়ার এডুকেশনে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) প্রভাব নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, ট্র্যাডিশনাল লেকচার-বেসড টারশিয়ারি এডুকেশন মডেল ক্রমশ অবসোলিট হয়ে পড়ছে। এআই-কে তিনি ইন্ডিয়ার জন্য ‘ম্যাসিভ অপরচুনিটি’বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, টেকনোলজি ব্যবহার করে মাল্টিলিঙ্গুয়াল ও অ্যাফোর্ডেবল এডুকেশন আরও স্কেলেবল করা সম্ভব। পাশাপাশি রিসার্চ ক্যাপাবিলিটি ও প্রফিসিয়েন্সি টেস্টিংয়ের উপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

আইসিসির ন্যাশনাল এক্সপার্ট কমিটির চেয়ারম্যান তথা সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য সত্যম রায়চৌধুরী বলেন, ইন্ডিয়ার অ্যাকাডেমিক ল্যান্ডস্কেপে এখন পিভোটাল মুহূর্ত চলছে। শুধু ডিগ্রি নয়, ক্রিটিকাল থিঙ্কার, প্রোবলেম-সলভার ও ইনোভেটর তৈরি করতে হবে। তিনি ২০২৬ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংসে ইন্ডিয়ার রেকর্ড প্রেজেন্সের কথাও উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট শিল্পপতি তথা টেগা গ্রুপ এর এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মদন মোহন মহাঙ্কা বলেন, ভিশন ২০৪৭-এর পথে ইন্ডিয়ার যাত্রা চালিত হতে হবে এন্ট্রেপ্রেনিউরদের দ্বারা, জব সিকারদের দ্বারা নয়। স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে যদি ইন্ডিয়াকে বিকশিত ও আত্মনির্ভর ভারত এবং বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ইকোনমি হতে হয়, তবে জব ক্রিয়েটর তৈরি করতে হবে। তাঁর সতর্কবার্তা, মাল্টিডাইমেনশনাল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ও ফার্স্ট-জেনারেশন এন্ট্রেপ্রেনিউরদের শক্ত সমর্থন না পেলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিজাস্টার’-এ পরিণত হতে পারে।

আইসিসির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ও হেরিটেজ গ্রুপ অফ ইনস্টিটিউশনের সিইও প্রদীপ আগরওয়াল বলেন,ফিউচার আমরা তৈরি করি।তিনি সতর্ক করে দেন,স্কেল উইদাউট কোয়ালিটি একটি মিসড অপরচুনিটি। তাঁর মতে, প্রশ্নটা রিফর্ম দরকার কি না, তা নয়—ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যাম্বিশনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে কি না, সেটাই আসল বিষয়।
বিশেষ বক্তব্য রাখেন ভারতে ফ্রান্স দূতাবাসের ফ্রেঞ্চ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড এডুকেশন অ্যাটাশে জুলিয়া মার্টিন এবং ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভি. এন. রাজশেখরন পিল্লাই।

সমাপনী ভাষণে আইসিসির ডিরেক্টর জেনারেল রাজীব সিং বলেন, হায়ার এডুকেশন সিস্টেমকে রেভলিউশনারি থট দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, এই সিস্টেমিক ট্রান্সফরমেশন শুধু গভর্নমেন্ট একা করতে পারবে না—অ্যাকাডেমিয়া, ইন্ডাস্ট্রি ও পলিসিমেকারদের সাস্টেইনড কলাবোরেশনেই তা সম্ভব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেআইএস গ্রুপের ডিরেক্টর সরদার সীমারপ্রিত সিং, ইন্টার গ্লোবাল এডুকেশন সার্ভিসেস এর চিফ এক্সিকিউটিভ রাজীব গুপ্ত, সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো চ্যান্সেলর অধ্যাপক ধ্রুবজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক অজয় কুমার রায়, অধ্যাপক অনুপম বসু।

Related Articles