মমতা না থাকলে CPM-এর বন্দুকের তলায় মাথা রেখে বাঁচতে হত! মোদি-শাহকে তোপ অভিষেকের
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক এলাকার রেল পরিষেবার বেহাল দশা তুলে ধরেন।
Truth Of Bengal: জঙ্গলমহলের রুক্ষ মাটিতে দাঁড়িয়ে অতীত আর বর্তমানের তুলনা টেনে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালের আগের ‘অশান্ত’ পুরুলিয়া আর বর্তমানের ‘শান্ত’ পুরুলিয়ার পার্থক্য স্পষ্ট করে দিয়ে আসন্ন নির্বাচনে জেলার ৯টি আসনেই বিজেপিকে পরাজিত করার আহ্বান জানালেন তিনি।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক মনে করিয়ে দেন বাম আমলের সেই দিনগুলোর কথা, যখন মাওবাদী নাশকতায় তটস্থ থাকত জঙ্গলমহল। তাঁর দাবি, একসময় সকাল ১০টার পর পুলিশও থানা থেকে বেরোতে ভয় পেত। সেই ভয়াল পরিস্থিতি কাটিয়ে আজ যে শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরেছে, তার কৃতিত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর ক’টি মাওবাদী নাশকতা হয়েছে? ক’জন মানুষের প্রাণ গিয়েছে?”
পুরুলিয়ার বর্তমান বিজেপি নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, ২০১১ সালের আগে যখন এলাকা অশান্ত ছিল, তখন আজকের বিজেপি নেতাদের দেখা পাওয়া যেত না। বাম আমলের ‘হার্মাদ’রাই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ হয়ে মাঠে নেমেছে বলে তাঁর অভিযোগ।
পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতকে সরাসরি নিশানা করে অভিষেক এলাকার রেল পরিষেবার বেহাল দশা তুলে ধরেন। চক্রধরপুর বা পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের মতো ট্রেনগুলি নিয়মিত দেরি করে চলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যিনি একটা ট্রেন সময়মতো হাওড়া পৌঁছনোর ব্যবস্থা করতে পারেন না, তিনি উন্নয়নের কথা বলেন কোন মুখে?”
জেলায় তৃণমূলকে ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টার পাল্টা জবাব দিয়ে অভিষেক ভোটারদের আহ্বান জানান ব্যালট বক্সে তার যোগ্য জবাব দিতে। একইসঙ্গে একটি বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “আমি এক কথার ছেলে। পুরুলিয়ার সব ক’টি আসনে তৃণমূল জয়ী হলে ৬ মাসের মধ্যে সাধারণ মানুষের বকেয়া সব দাবি পূরণ করার চেষ্টা করব।” এক মাস পর তিনি আবারও পুরুলিয়া সফরে আসবেন বলে ঘোষণা করেন।






