ওপার বাংলা

বাংলাদেশের রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত মোড়!

স্বাক্ষরের পর এতে নতুন ও আপত্তিকর বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।

Truth Of Bengal: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মধুচন্দ্রিমা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে গুরুতর প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিএনপি। অন্যদিকে, জুলাই সনদ এবং গণভোট নিয়ে জামাত-ই ইসলামি ও খালেদা জিয়ার পার্টির মধ্যে বিবাদ তুঙ্গে উঠেছে। জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরও সেই নথি নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছে বিএনপির। স্বাক্ষরের পর এতে নতুন ও আপত্তিকর বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় ঐক্য কমিশনের বিরুদ্ধে অনৈক্য সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন।

এদিকে, বিএনপি নেতাদের কথায় চলতি নভেম্বরে দেশে ফেরার কথা ঘোষণা করেছেন তারেক জিয়া। তবে ভোট সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দলের নেতারা এখনও সরকারের প্রতি সম্পূর্ণভাবে আস্থা রাখতে পারছেন না। সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির গোড়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শেষ না হলে, ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়বেন তারেক জিয়া। একবার দেশে ফিরে এলে তার জন্য লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফেরার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে। ভোট অনুষ্ঠিত হলে বিএনপি সরকার গড়ার আশা নিয়ে দেশে ফিরবেন তিনি।

এমন অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে আচমকা রাজনৈতিক ঘূর্ণি সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সক্রিয়তার কারণে। সূত্রের খবর, জয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু মার্কিন কর্মকর্তার কথাও হয়েছে। ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার হরণ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি মার্কিন কর্তাদের অবহিত করেছেন। বহু বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা জয়, বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর আমেরিকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

সম্প্রতি, এক বছর পর জয় সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ভোট হলে তা হবে এক ধরনের ভাঁওতাবাজি। এছাড়াও, ইউনুস সরকারের ওপর থেকে অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান জয়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে লাখ লাখ সমর্থক ভোট বয়কট করবেন এবং এমন নির্বাচন সরকার ও দেশের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে না।

বিশেষভাবে লক্ষ্যযোগ্য যে, হাসিনা সাক্ষাৎকারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। গত বছর সরকার পতনের পর তাঁর দলের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করেছিলেন, তবে এবার তিনি মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছেন। এদিকে, জঙ্গিবাদ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রশাসনও বাংলাদেশে সতর্ক। এই পরিস্থিতিতে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হলে আমেরিকা শেষ পর্যন্ত সায় দেবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

Related Articles